স্টাফ রিপোর্টার:
বরিশাল জজ কোর্টের আইনজীবী জাকির হোসেনকে ঘিরে সম্প্রতি প্রকাশিত অভিযোগ ও সংবাদকে কেন্দ্র করে এলাকায় নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, একটি পক্ষ পরিকল্পিতভাবে তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে এবং জমি বিরোধকে কেন্দ্র করে মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে সামাজিকভাবে হেয় করার চেষ্টা করছে। সাম্প্রতিক সময়ে কয়েকটি গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জাকির হোসেনের বিরুদ্ধে জমি দখল ও রাস্তা নিয়ে বিরোধের অভিযোগ আনা হয়। তবে স্থানীয় একাধিক বাসিন্দা বলছেন, বাস্তব ঘটনা ভিন্ন এবং বিরোধটির কেন্দ্রে রয়েছে একটি পুরনো চলাচলের রাস্তা।
গতকাল সন্ধ্যায় বরিশাল নগরীর একটি ব্যক্তিগত চেম্বারে এ বিষয়ে কথা বলতে গেলে সেখানে উপস্থিত কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা সাংবাদিকদের সামনে নিজেদের বক্তব্য তুলে ধরেন। তাদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহৃত একটি চলাচলের পথ দখলের চেষ্টা থেকেই পুরো বিরোধের সূত্রপাত।
স্থানীয় বাসিন্দা নাজমা বেগম বলেন, “আমরা এখানে জমি কিনে বসবাস করছি বহু বছর ধরে। পরে রেজাউল হক বাবলু জমি কেনেন। তিনি তার সীমানা নিজেই দেয়াল দিয়ে ঘিরেছেন। কিন্তু যে রাস্তা দিয়ে অন্তত ১৫টির বেশি পরিবার ১০ বছরের বেশি সময় ধরে চলাচল করছে, এখন সেটিকে নিজের জমি বলে দাবি করছেন।”
তার ভাষ্য অনুযায়ী, এলাকাবাসী বিষয়টি জানতে জমির মূল বিক্রেতা সৈয়দ আকবরের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, রাস্তা বাদ দিয়েই বাবলুর কাছে জমি বিক্রি করা হয়েছিল।
আরেক বাসিন্দা কহিনুর বেগম বলেন, “অ্যাডভোকেট জাকির কারও জমি দখল করতে আসেননি। বরং বাবলু কতৃক রাস্তা দখলের চেষ্টা হচ্ছে। এখন সাংবাদিক এনে উল্টো অভিযোগ তুলে বিভ্রান্তি তৈরি করা হচ্ছে।”
স্থানীয়দের কয়েকজনের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহৃত এই পথ বন্ধ হয়ে গেলে ভেতরের বাড়িগুলোর স্বাভাবিক যাতায়াত ব্যাহত হবে।
এলাকার বাসিন্দা জসিম উদ্দিনের বক্তব্যেও উঠে আসে অন্য তথ্য। তিনি বলেন, “জাকির সাহেব রাস্তা খুঁড়ে পানির লাইন নিতে চেয়েছিলেন। আপত্তি ওঠার পর তিনি অন্য দিক দিয়ে সংযোগ নিয়েছেন। এরপরও তার বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে।”
অভিযোগের বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে অ্যাডভোকেট জাকির হোসেন বলেন, আমাকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে টার্গেট করা হচ্ছে। আমি কারও জমি দখল করিনি। পানির লাইনের বিষয়েও আপত্তি আসার পর বিকল্প ব্যবস্থা নিয়েছি। পরে দেখি আমার ছবি দিয়ে একটি বানোয়াট সংবাদ প্রকাশ হয়েছে। অথচ কেউ আমার বক্তব্য নেওয়ার প্রয়োজন মনে করেনি কিংবা সরেজমিনে সত্যতাও যাচাই করেনি। একটি বিশেষ পক্ষের স্বার্থ রক্ষায় উদ্দেশ্যমূলকভাবে সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে।”
জাকির হোসেন আরও জানান, বিষয়টি নিয়ে তিনি আদালতে মামলা করেছেন এবং মামলাটি বর্তমানে তদন্ত করছে পিবিআই ।
তবে অভিযুক্ত পক্ষ রেজাউল হক বাবলুর বক্তব্য এই প্রতিবেদনের জন্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।