নিজস্ব প্রতিবেদকঃ বিদেশে ভালো চাকরি, স্থায়ী রেসিডেন্স আইডি ও উচ্চ বেতনের স্বপ্নে বিভোর হয়ে বহু যুবক পাড়ি জমিয়েছিলেন মধ্যপ্রাচ্যের পথে। কিন্তু সেই স্বপ্ন আজ বিষাদ আর কান্নার গল্প—কারণ এই স্বপ্নগুলো ধ্বংস করে দিয়েছেন এক চিহ্নিত প্রতারক: মোঃ রফিকুল্লাহ গাজ্জালী।
বাগেরহাট জেলার এক প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে উঠে আসা রফিকুল্লাহ নিজেকে "মানবসম্পদ প্রেরণকারী" পরিচয়ে পরিচিত করলেও, বাস্তবে তিনি বহু যুবকের ভবিষ্যৎ ধ্বংসকারী এক প্রতারক। দীর্ঘদিন ধরে তিনি সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ (UAE) মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে অবৈধভাবে লোক পাঠানোর ভয়াবহ চক্র চালিয়ে আসছিলেন।
চাকরির লোভ দেখিয়ে জীবন ভাঙার ফাঁদ
উন্নত চাকরি, দ্রুত রেসিডেন্স আইডি, থাকা-খাওয়ার সুবিধাসহ আকর্ষণীয় প্রলোভনে দেশের অসংখ্য বেকার যুবককে প্রলুব্ধ করেন রফিকুল্লাহ। প্রতিজনের কাছ থেকে নেয়া হয় মোটা অঙ্কের টাকা। তার ‘নির্ভরযোগ্যতা’ দেখাতে ব্যবহার করতেন নানা মিথ্যা দলিল ও ভুয়া প্রতিষ্ঠানের নাম।
কিন্তু প্রবাসে পৌঁছেই বাস্তবতার ভয়াবহ রূপ বুঝতে পারেন ভুক্তভোগীরা। প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কোনো আইডি বা চাকরি না দিয়ে রফিকুল্লাহ উল্টো আরও অর্থ দাবি করতেন। কেউ কেউ গৃহবন্দী অবস্থায় পরিবারের কাছে টাকা চেয়ে পাঠাতে বাধ্য হন। এরপরও মেলেনি চাকরি, হয়নি আইডি।
অবৈধ প্রবাস জীবন, আতঙ্ক আর অনিশ্চয়তা
কাজ ও বৈধতা না থাকায় দিনের পর দিন অবৈধভাবে থাকতেন সেই যুবকরা। পুলিশি ভয়ে কাজ ছাড়া, ঠিকানাহীন, অমানবিক পরিবেশে দিন কাটাতে বাধ্য হন তারা। কেউ কেউ মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন, এমনকি আত্মহত্যার চেষ্টার কথাও জানা গেছে।
নিঃস্ব পরিবার, নিঃশেষ ভবিষ্যৎ
বাড়ি বিক্রি করে, ঋণ নিয়ে বহু পরিবার তাদের সন্তানদের পাঠিয়েছিল ভবিষ্যতের আশায়। আজ তারা নিঃস্ব। কেউ দেশে ফিরে হতাশাগ্রস্ত, কেউ এখনো অবৈধভাবে বিদেশে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। রফিকুল্লাহর একেকটি প্রতারণা যেন একেকটি পরিবার ধ্বংসের গল্প।
প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ
ভুক্তভোগী পরিবার ও মানবাধিকার সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে দাবি উঠেছে—
প্রতারক রফিকুল্লাহ গাজ্জালীর বিরুদ্ধে দ্রুত গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
তার অবৈধ সম্পদ বাজেয়াপ্ত করে ভুক্তভোগীদের ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।
মানবপাচার ও বিদেশে প্রতারণা প্রতিরোধে কঠোর মনিটরিং এবং সুষ্ঠু প্রক্রিয়া নিশ্চিত করতে হবে।
সমাজের জন্য সতর্কবার্তা
রফিকুল্লাহ গাজ্জালীর প্রতারণা কেবল ব্যক্তিগত নয়, এটি সমাজের জন্য এক কঠিন সতর্কবার্তা। যদি এখনই ব্যবস্থা না নেওয়া হয়, তবে আরও অনেক রফিকুল্লাহ আরও কত স্বপ্ন কেড়ে নেবে, তার হিসেব রাখা যাবে না।