নিজস্ব প্রতিবেদক:
বাংলাদেশ পুলিশের গৌরবময় ইতিহাস কলঙ্কিত হয়েছে আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয়করণের মাধ্যমে। স্বৈরাচারী শেখ হাসিনার শাসনামলে পুলিশকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হয়। এর ধারাবাহিকতায় বিভিন্ন কর্মকর্তা প্রভাব-প্রতিপত্তির জোরে দুর্নীতি, জমি দখল ও নির্যাতনের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন।
বরিশালের সাবেক পুলিশ সুপার (এসপি) মোঃ ওয়াহিদুল ইসলাম (বিপিএম)-এর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। শুধু তিনিই নন, বরিশাল জেলা পুলিশের একাধিক কর্মকর্তা ও সহযোগীদের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের জমি দখল, ভয়ভীতি, ঘুষ-বাণিজ্য ও মিথ্যা মামলার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
ভুক্তভোগী শেখ আনোয়ার হোসেন (৬৩) অভিযোগ করেন, বরিশালের বগুড়া আলেকান্দা মৌজায় তাঁর মালিকানাধীন পাঁচ শতাংশ জমি দখলে নেয় পুলিশ কর্মকর্তারা। জমি বিক্রি করে ক্রেতাদের নামে রেজিস্ট্রি দলিল ও খতিয়ান হালনাগাদ করা হলেও পরবর্তীতে এসপি ওয়াহিদুল ইসলামের নির্দেশে স্থানীয় প্রভাবশালী মহল ও পুলিশের সহযোগিতায় জোরপূর্বক দখল করা হয়।
তিনি জানান, পুলিশের পক্ষ থেকে দশ লাখ টাকা ও একটি ফ্ল্যাট ঘুষ দাবি করা হয়। দাবি না মানায় ভুক্তভোগী ও জমির ক্রেতাদের ভয়ভীতি, হুমকি এবং মিথ্যা মামলায় জড়ানো হয়। এমনকি জমির সীমানা নির্ধারণে সরকারি সার্ভেয়ারের দেওয়া পিলার পর্যন্ত ভেঙে ফেলা হয়।
অভিযোগে বলা হয়,
ভুক্তভোগীরা বলেন, “এসপি ওয়াহিদুল ইসলাম বরিশালে থাকাকালীন সময়ে বিরোধী মতের মানুষকে গ্রেপ্তার, মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি ও জমি দখল করা ছিল নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা। ছাত্র জনতার আন্দোলনকেও প্রশ্নবিদ্ধ করতে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনগুলোর পক্ষে অর্থ দিয়ে সহযোগিতা করেছেন।”
টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন,
“অন্যের জমি দখল কোনো সামান্য অপরাধ নয়। দুর্নীতি ছোট-বড় হতে পারে না, দুর্নীতি মানেই দুর্নীতি। এসব ঘটনায় দুদকের আরও অনুসন্ধান জরুরি।”
অন্যদিকে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান বলেন,
“যারা দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত, প্রমাণ মিললেই তাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হবে। কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।”
অভিযোগের পরও এখনো বহাল তবিয়তে আছেন ওয়াহিদুল ইসলামসহ অন্যান্য অভিযুক্ত কর্মকর্তারা। তবে ভুক্তভোগী পরিবার ইতোমধ্যে দুদক, স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা, আইজিপি ও বরিশাল ডিআইজি কার্যালয়সহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন।
বরিশালের সাবেক এসপি ওয়াহিদুল ইসলামকে ফোনে একাধিকবার চেষ্টা করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি।