শাকিল আহম্মেদ
পবিত্র ঈদুল আজহা মুসলিম উম্মাহর জন্য ত্যাগ, আত্মশুদ্ধি ও মানবিকতার এক অনন্য শিক্ষা বহন করে। এই পবিত্র দিনটিকে কেন্দ্র করে সকালেই ব্রান্ডকম্পাউন্ট মসজিদে ঈদুল আজাহার সালাত আদায়, সাধারণ মানুষের খোঁজখবর নেওয়া এবং অসহায়দের পাশে দাঁড়ানোর মধ্য দিয়ে দিনব্যাপী ব্যস্ত সময় পার করেছেন এ্যাডভোকেট মুয়াযযম হোসাইন হেলাল। তিনি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারী জেনারেল এবং আসন্ন বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদপ্রার্থী হিসেবে পরিচিত রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব।
ঈদের সকালে তিনি বিপুল সংখ্যক মুসল্লির সাথে পবিত্র ঈদুল আজহার জামাতে অংশগ্রহণ করেন। নামাজ শেষে উপস্থিত মুসল্লিদের সাথে কোলাকুলি ও শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। এসময় তিনি দেশবাসীর শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনা করে সবাইকে ঈদের শুভেচ্ছা জানান। তিনি বলেন, ঈদুল আজহার প্রকৃত শিক্ষা হচ্ছে ত্যাগ, সহমর্মিতা ও মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের চেষ্টা। ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রের কল্যাণে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করারও আহ্বান জানান তিনি।
পরে বিভিন্ন গণমাধ্যমকর্মী ও সাংবাদিকদের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময়কালে তিনি বলেন, “ঈদ শুধু আনন্দের উৎসব নয়, এটি ধনী-গরিবের ভেদাভেদ ভুলে মানবিক বন্ধন সুদৃঢ় করার একটি মহৎ উপলক্ষ। সমাজের সুবিধাবঞ্চিত মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে পারলেই ঈদের আনন্দ পূর্ণতা পায়।”
এরপর আল্লাহর নৈকট্য লাভের আশায় তিনি নিজ হাতে পশু কোরবানি সম্পন্ন করেন। কোরবানির পরপরই তিনি দরিদ্র ও অসহায় মানুষের মাঝে কোরবানির গোশত বিতরণ কার্যক্রমে অংশ নেন। দুপুরে নিজ গ্রাম কুন্দিয়ালপাড়ায় শতাধিক দরিদ্র পরিবারের মাঝে কোরবানির গোশত বিতরণ করেন। এসময় স্থানীয় সাধারণ মানুষের সাথে কুশল বিনিময় করেন এবং তাদের সুখ-দুঃখের খোঁজখবর নেন।
পরবর্তীতে তিনি বরিশাল নগরীর ২৩ নম্বর ও ২০ নম্বর ওয়ার্ডে অসহায়, নিম্নআয়ের ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের বাড়ি বাড়ি গিয়ে কোরবানির গোশত পৌঁছে দেন। তার এই মানবিক উদ্যোগে স্থানীয়দের মাঝে ব্যাপক প্রশংসা দেখা যায়। অনেকেই বলেন, ঈদের দিনে সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানোর এমন উদ্যোগ সমাজে ইতিবাচক বার্তা ছড়িয়ে দেয়।
দিনের শেষভাগে ফিশারি রোড এলাকায় আসরের সালাত আদায় করেন। পরে সাবেক সমাজকল্যাণ বিভাগের ডেপুটি ডাইরেক্টর মোঃ মাহবুবুল আলম-এর জানাজায় অংশগ্রহণ করেন। সেখানে তিনি নিজেই জানাজার সালাতে ইমামতি করেন। জানাজা শেষে মরহুমের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে দোয়া পরিচালনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
সারাদিন ধর্মীয় মূল্যবোধ, সামাজিক দায়বদ্ধতা ও মানবিক কর্মকাণ্ডের সমন্বয়ে এ্যাডভোকেট মুয়াযযম হোসাইন হেলালের ঈদ আয়োজন ছিল অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। সাধারণ মানুষের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে সময় কাটানো, অসহায়দের পাশে দাঁড়ানো এবং ধর্মীয় অনুশাসন পালনের মধ্য দিয়ে তিনি এক মানবিক ও দায়িত্বশীল নেতৃত্বের পরিচয় দিয়েছেন বলে স্থানীয়দের অভিমত।