ঢাকার উত্তরা দিয়াবাড়ি এলাকার মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর একটি F-7 BGI মডেলের প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্ত হয়েছে। মর্মান্তিক এ ঘটনায় দুইজন নিহত এবং অন্তত ২৮ জন আহত হয়েছেন, যাঁদের বেশিরভাগই শিক্ষার্থী। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
দুর্ঘটনার সময় ও প্রেক্ষাপট
ঘটনা ঘটে সোমবার (২১ জুলাই) দুপুর ১টা ১৮ মিনিটে। বিমানটি দুপুর ১টা ৬ মিনিটে ঢাকা বেস থেকে উড্ডয়ন করে একটি প্রশিক্ষণ মিশনে বের হয়। উড্ডয়নের মাত্র ১২ মিনিট পরই এটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মাইলস্টোন স্কুলের ছাদ ও ক্যানটিনের ওপর আছড়ে পড়ে। তখন ক্লাস চলছিল, ফলে তাৎক্ষণিকভাবে পুরো ক্যাম্পাসে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
হতাহতদের তথ্য
বিধ্বস্তের পরপরই বিস্ফোরণ ঘটে এবং পুরো ভবনজুড়ে আগুন ও ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ে। এতে
• ঘটনাস্থলেই বিমানচালক পাইলট নিহত হন,
• পরে একজন আহত ব্যক্তি চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান,
• আহত হন কমপক্ষে ২৮ জন, যাঁদের অনেকেই দগ্ধ হয়েছেন।
আহতদের দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়।
উদ্ধার ও তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা
ঘটনার পরপরই ফায়ার সার্ভিসের ৮টি ইউনিট, সেনাবাহিনী, বিমানবাহিনী ও স্থানীয় জনতা যৌথভাবে উদ্ধারকাজে অংশ নেয়। একাধিক অ্যাম্বুলেন্স আহতদের হাসপাতালে নিয়ে যায়। ভবনের ক্যানটিন ও ছাদে আগুন ছড়িয়ে পড়ায় কিছু অংশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীর বিবরণ
একাধিক শিক্ষার্থী জানায়, ক্লাস চলাকালীন হঠাৎ বিকট শব্দে কম্পন অনুভব হয়। এরপর ভবনের ছাদ থেকে আগুন ও ধোঁয়ার কুণ্ডলী উঠতে দেখা যায়। শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা আতঙ্কে ভবন থেকে বেরিয়ে আসেন।
একজন শিক্ষার্থী বলেন,
“আমরা হঠাৎ বিকট শব্দে চমকে যাই। জানালা দিয়ে দেখি ক্যানটিনের দিক থেকে আগুন আর কালো ধোঁয়া উঠছে।”
তদন্ত ও নিরাপত্তা প্রশ্ন
বাংলাদেশ বিমানবাহিনী ও আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, এটি একটি প্রশিক্ষণ বিমান ছিল এবং তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এখনো পর্যন্ত দুর্ঘটনার কারণ নিশ্চিত হওয়া যায়নি। প্রাথমিকভাবে যান্ত্রিক ত্রুটি বা ফ্লাইট কন্ট্রোল জনিত সমস্যার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এই ঘটনায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও আবাসিক এলাকার ওপর দিয়ে বিমান চলাচল ও মহড়ার নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষের অবস্থান
মাইলস্টোন স্কুল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঘটনাস্থলে তাৎক্ষণিকভাবে উদ্ধার প্রচেষ্টা চালানো হয় এবং সব শিক্ষার্থীকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। ভবনের কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হলেও ভবিষ্যতের জন্য নিরাপত্তা পরিকল্পনা ও মনো-সামাজিক সহায়তা গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
উত্তরাবিমানF-7 BGI (প্রশিক্ষণ ফাইটার)নিহত২ জনআহত২৮+ জনউদ্ধার তৎপরতাফায়ার সার্ভিস, সেনাবাহিনী, স্থানীয় বাসিন্দাতদন্তআইএসপিআর এর অধীনে কমিটি গঠনশিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ক্ষতিক্যানটিন ও ছাদের অংশবিশেষ ধ্বংসপ্রাপ্ত
একটি প্রশিক্ষণ মিশনের মর্মান্তিক পরিণতি এখন পুরো দেশের আলোচনার কেন্দ্রে। জীবনের ঝুঁকি ও শিক্ষার্থীদের মানসিক ট্রমা—দুটোই প্রশ্ন তোলে দেশের বিমান নিরাপত্তা ও নাগরিক এলাকায় প্রশিক্ষণের যৌক্তিকতা নিয়ে।
এ ঘটনায় নিহতদের আত্মার শান্তি কামনা এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতা প্রত্যাশা করছে পুরো জাতি।