বানারীপাড়া (বরিশাল) প্রতিনিধি :
বরিশালের বানারীপাড়া থানাধীন ঐতিহ্যবাহী সরকারি ইউনিয়ন ইনস্টিটিউশন পাইলট স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত প্রবীণ শিক্ষক আব্দুল মান্নান স্যার আর নেই। ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। শিক্ষাজীবনের দীর্ঘ পথচলায় অসংখ্য শিক্ষার্থীকে আলোকিত করে যাওয়া এই গুণী শিক্ষক ২১ জানুয়ারি ২০২৬, বুধবার ভোর রাত ৩টা ৪৭ মিনিটে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৭ বছর।
মৃত্যুকালে তিনি দুই পুত্র, তিন কন্যা, নাতি-নাতনিসহ অসংখ্য ছাত্র, সহকর্মী ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। তাঁর মৃত্যুতে বানারীপাড়ার শিক্ষা অঙ্গনসহ সামাজিক ও রাজনৈতিক মহলে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
মরহুম আব্দুল মান্নান স্যার ছিলেন একজন আদর্শ, নীতিবান ও অত্যন্ত স্নেহশীল শিক্ষক। সরকারি ইউনিয়ন ইনস্টিটিউশন পাইলট স্কুলে দীর্ঘদিন শিক্ষকতা করে তিনি হাজারো শিক্ষার্থীর জীবনে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিয়েছেন। শৃঙ্খলা, সততা ও মানবিক মূল্যবোধের শিক্ষায় তিনি ছিলেন আপসহীন। শিক্ষকতার পাশাপাশি সামাজিক কর্মকাণ্ডেও তাঁর ছিল সক্রিয় ভূমিকা।
তিনি বানারীপাড়া পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান জুয়েলের পিতা। তবে রাজনৈতিক পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে তিনি ছিলেন সর্বমহলে শ্রদ্ধেয় একজন মানুষ। তাঁর বিনয়ী আচরণ ও ন্যায়পরায়ণতা তাঁকে এলাকাবাসীর হৃদয়ে বিশেষ আসনে অধিষ্ঠিত করে রেখেছিল।
মরহুমের জানাজায় অংশগ্রহণ করেন উজিরপুর–বানারীপাড়া অঞ্চলের একমাত্র কান্ডারী, বরিশাল-২ আসনের বিএনপির মনোনীত প্রার্থী সরদার এস. সরফুদ্দিন আহমেদ সান্টু। এছাড়াও মরহুমের রুহের মাগফেরাত কামনায় দোয়া ও শোক প্রকাশ করতে উপস্থিত ছিলেন বরিশাল জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শাহীনসহ বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের জেলা, উপজেলা ও পৌর পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।
মরহুম আব্দুল মান্নান স্যারের জানাজায় শিক্ষার্থী, শিক্ষক, রাজনীতিক, জনপ্রতিনিধি, সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ও সর্বস্তরের মানুষের ঢল নামে। এলাকাবাসীর অংশগ্রহণ ছিল অতুলনীয়। জানাজাস্থলে সৃষ্টি হয় এক আবেগঘন পরিবেশ। অনেক সাবেক শিক্ষার্থী চোখের জল ধরে রাখতে পারেননি।
মরহুমের মৃত্যুতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের পক্ষ থেকে গভীর শোক প্রকাশ করা হয়েছে। শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে তাঁর বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করা হয়েছে।
প্রবীণ এই শিক্ষাগুরুর মৃত্যুতে বানারীপাড়া এক আদর্শ শিক্ষক ও আলোকিত মানুষের অভিভাবককে হারালো—যাঁর অবদান চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।