বানারীপাড়া (বরিশাল) প্রতিনিধি
বরিশালের বানারীপাড়া উপজেলার সৈয়দকাঠি ইউনিয়নে কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্যে সাধারণ মানুষ চরমভাবে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে। অভিযোগ উঠেছে, স্থানীয় মনির মীরের ছেলেকে ঘিরে এই গ্যাং গড়ে উঠেছে এবং এর মাধ্যমে সাতবাড়িয়া গ্রামে নানান ধরনের অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে তারা।
ঘটনাটি শুরু হয় সম্প্রতি একটি ফুটবল খেলা নিয়ে। খেলার মাঠে মনির মীরের ছেলে মসজিদবাড়ি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও কলেজের গোলপোস্ট ভেঙে ফেলে। শুধু তাই নয়, বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকাদের উদ্দেশ্যে অশ্লীল ভাষায় গালাগালি করে এবং প্রকাশ্যে মারধরের হুমকি দেয়। শিক্ষকরা বিষয়টি আর সহ্য না করতে পেরে বানারীপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) জানান এবং থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
শিক্ষকদের অভিযোগ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাঠে এ ধরনের ভাঙচুর ও হুমকি-ধমকি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। “আমরা প্রতিনিয়ত আতঙ্কে আছি। ক্লাস ঠিকমতো নিতে পারছি না। এর দ্রুত সমাধান না হলে শিক্ষা পরিবেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে”—অভিযোগ করেন এক শিক্ষক।
এদিকে, স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, মনির মীর দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। তার ছেলের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা কিশোর গ্যাং এখন গ্রামজুড়ে ভয়ভীতি ছড়িয়ে দিয়েছে। নানা সময় তাদের দ্বারা ছিনতাই, মারামারি, চাঁদাবাজি এবং অশান্তি সৃষ্টির অভিযোগ শোনা যায়।
সাতবাড়িয়া গ্রামের এক প্রবীণ বাসিন্দা বলেন, “মনির মীরের অত্যাচারে আমরা অনেক দিন ধরেই কষ্ট পাচ্ছি। এখন তার ছেলে গ্যাং বানিয়ে আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। প্রশাসন যদি দ্রুত ব্যবস্থা না নেয়, তাহলে বড় ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটতে পারে।”
অভিযোগের বিষয়ে বানারীপাড়া থানার ওসি জানান, বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইনের সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, কিশোর গ্যাংয়ের এই উত্থান শুধু একটি এলাকার জন্য নয়, বরং গোটা সমাজের জন্য অশনিসংকেত। তারা বলছেন, পরিবার ও সামাজিক বন্ধন ভেঙে পড়ার পাশাপাশি প্রশাসনের কঠোর নজরদারির অভাবে কিশোররা সহজেই গ্যাং সংস্কৃতিতে জড়িয়ে পড়ছে। এখনই কার্যকর উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে এর পরিণতি ভয়াবহ হতে পারে।