বানারীপাড়া (বরিশাল) প্রতিনিধি
বরিশালের বানারীপাড়া উপজেলায় কৃষক দল নেতা আবদুল লতিফের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে চরম বিতর্ক দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, একটি অপ্রীতিকর ঘটনায় মৃত্যু হলেও মামলাটিকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার জন্য নির্দোষ মানুষ ও জামায়াতের নেতাকর্মীদের মিথ্যা আসামি করা হয়েছে। এতে এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।
ঘটনার বিবরণঃ
গত শনিবার বিকেলে উপজেলার করফাকর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে রাজনৈতিক বিষয়ে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে বিএনপিকর্মী দেলোয়ার হোসেন ঘরামী কৃষক দল নেতা আবদুল লতিফকে একাধিকবার চড়-থাপ্পড় দেন। এতে লতিফ অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁকে স্থানীয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। তবে চিকিৎসক সেখানে পৌঁছানোর পরপরই তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্যঃ
প্রত্যক্ষদর্শী ইব্রাহীম হাওলাদার জানান, তিনি নিজ চোখে দেখেছেন দেলোয়ার লতিফকে চড়-থাপ্পড় দিয়েছেন। তবে কোনো সংঘবদ্ধ হামলার ঘটনা ঘটেনি। তিনি আরও বলেন, “আমি নিজে লতিফকে হাসপাতালে নেওয়ার কাজে সহযোগিতা করেছি। অথচ মামলায় আমাকেও আসামি করা হয়েছে।”
করফাকর বায়তুল আমান জামে মসজিদের ইমাম মাওলানা জাহিদুল ইসলাম বলেন, “লতিফ আমার মসজিদের মুসল্লি ছিলেন। আসরের নামাজের পর মারামারির কথা শুনে ঘটনাস্থলে গিয়েছিলাম। তখন লতিফকে স্থানীয়রা হাসপাতালে নিয়ে গেছে। অথচ আমাকেও মামলার আসামি বানানো হয়েছে।”
জামায়াতের নেতাদের অভিযোগঃ
সৈয়দকাঠী ইউনিয়ন জামায়াতের আমির মোহাম্মদ ফেরদাউস, নায়েবে আমির হাফেজ নাজিম উদ্দিন এবং যুব জামায়াতের নেতা জাহিদুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, “ঘটনাস্থলে না থেকেও আমাদের নাম মামলায় জুড়ে দেওয়া হয়েছে। বিএনপির কিছু নেতা রাজনৈতিক ফায়দা লোটার জন্য এ ঘটনার সঙ্গে জামায়াতকে জড়াচ্ছে।”
নিহতের পরিবারের বক্তব্যঃ
নিহত লতিফের স্ত্রী পারভীনা বেগম বলেন, মামলার এজাহারে তিনি তিনজনের নাম উল্লেখ করেছিলেন। এ তিনজনের মধ্যে কোনো জামায়াত নেতার নাম ছিল না। তবে পরে কারা কিভাবে অতিরিক্ত নাম যুক্ত করেছে, সে বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না।
বিএনপির অবস্থানঃ
সৈয়দকাঠী ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম দাবি করেন, যাদের আসামি করা হয়েছে তারা ঘটনাস্থল কিংবা কাছাকাছি ছিলেন। এখানে কাউকে মিথ্যা ফাঁসানো হয়নি। উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রিয়াজ উদ্দিন আহমেদ মৃধা বলেন, “এ ঘটনায় রাজনীতি করার কোনো সুযোগ নেই। আমরা শুধু ভুক্তভোগী পরিবারকে সহযোগিতা করছি।”
পুলিশের বক্তব্যঃ
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই আরাফাত হাসান জানান, বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত তদন্ত পরিদর্শক শতদল মজুমদার বলেন, “যদি কোনো নির্দোষ ব্যক্তি আসামি হয়ে থাকে, তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের আইনের আওতায় আনা হবে।”
এলাকায় উত্তেজনাঃ
এ ঘটনার পর এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। অনেক নির্দোষ মানুষ আতঙ্কে বাড়িছাড়া রয়েছেন। সাধারণ মানুষের দাবি, নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীকে আইনের আওতায় আনতে হবে, যাতে নিরীহ কেউ হয়রানির শিকার না হয়।