মাইদুল ইসলাম রনি | বানারীপাড়া প্রতিনিধি
বরিশালের বানারীপাড়া উপজেলায় অবৈধভাবে বালু উত্তোলনকে কেন্দ্র করে চরম অস্থিরতা বিরাজ করছে। বাবুগঞ্জের কুখ্যাত সন্ত্রাসী ও মাদক ব্যবসায়ী মোঃ শহীদ পেদা ওরফে গলাকাটা শহীদ সম্প্রতি বানারীপাড়ার সন্ধ্যা নদীতে ড্রেজার বসিয়ে জোরপূর্বক বালু উত্তোলন শুরু করলে স্থানীয়রা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে।
শহীদ পেদা দাবি করছেন, তিনি সরকারের কাছ থেকে নদীর চর ইজারা নিয়েছেন। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ—যে জায়গার ইজারা তিনি দেখাচ্ছেন, সেটি বর্তমানে স্থায়ী চর, যেখানে বহু মানুষ ঘরবাড়ি তৈরি করে বসবাস করছেন। ফলে সেখানে বালু কাটার নাম করে আসলে জবরদখল ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালানো হচ্ছে।
এ বিষয়ে বানারীপাড়া থানা ইনচার্জ মোহাম্মদ মোস্তফা বলেন, “এটা আমার বিষয় নয়, আমি কিছু জানি না।” তবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জানান, ইজারাকৃত জায়গা ছাড়া অন্য কোথাও বালু উত্তোলন করা হলে এসিল্যান্ড প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন।
অভিযোগ রয়েছে, শহীদ পেদার সহযোগীরা গভীর রাতে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করছে। তাদের কাছে অস্ত্রও রয়েছে। এ কারণে এলাকাজুড়ে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। স্থানীয়রা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন—অবৈধভাবে কেউ বালু কাটতে এলে তারা একযোগে প্রতিরোধ গড়ে তুলবেন।
শহীদ পেদা শুধু বালু ব্যবসায়ীই নন, বরং বাবুগঞ্জ থানার শীর্ষ সন্ত্রাসী ও মাদক সম্রাট হিসেবেও কুখ্যাত। থানার তালিকায় ডিএসবির চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী হিসেবে তার নাম এক নম্বরে, আর মাদক ব্যবসায়ী হিসেবে নবম স্থানে রয়েছে। তার বিরুদ্ধে মোট ১২টি মামলা রয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে বারবার গ্রেফতার হলেও দ্রুত জামিনে বেরিয়ে এসে পুনরায় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হন তিনি। সম্প্রতি মুলাদীর আড়িয়াল খাঁ নদী থেকে অবৈধ বালু উত্তোলনের সময় ভ্রাম্যমাণ আদালতে ৪ লাখ টাকা জরিমানাও গুনেছেন শহীদ পেদা।
এলাকাবাসীর দাবি—“শান্ত বানারীপাড়াকে অশান্ত করে তুলছে শহীদ পেদা। প্রশাসন যদি দ্রুত ব্যবস্থা না নেয়, তবে যেকোনো সময় বড় ধরনের সংঘর্ষ ও প্রাণহানি ঘটতে পারে।”