নিজস্ব প্রতিবেদক:
দীর্ঘদিন পর ঢাকার ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জাতীয় সমাবেশ করলো বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। শনিবার (১৯ জুলাই) আয়োজিত এই সমাবেশ থেকে দলটি সাত দফা দাবি উত্থাপন করেছে, যার মধ্যে ছিল আনুপাতিক নির্বাচন ব্যবস্থা (পিআর পদ্ধতি) চালু, নির্বাচনের সময় ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ নিশ্চিত করাসহ দুর্নীতির বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান গ্রহণ।
এটি ছিল আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ঢাকায় জামায়াতের প্রথম বড় সমাবেশ, যা রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনা সৃষ্টি করেছে।
সমাবেশে দলের আমির ড. শফিকুর রহমান বলেন, “আমরা কোনো দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দেব না। যদি ভবিষ্যতে আমাদের কেউ সংসদ সদস্য হন বা সরকার গঠন করেন, তাহলে তারা সরকার থেকে প্লট নেবেন না, চড়বেন না ট্যাক্স ফ্রি গাড়িতে।”
বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি দুইবার অসুস্থ হয়ে মঞ্চে ঢলে পড়েন। পরে বসে থেকে বক্তব্য শেষ করেন। তাঁর এই দৃঢ় ভাষণের মধ্য দিয়ে দলটির ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক রূপরেখা স্পষ্ট হয়।
জামায়াতের দাবি অনুযায়ী, দেশে বর্তমান নির্বাচন ব্যবস্থা সাধারণ মানুষের ভোটের অধিকার থেকে অনেক দূরে। দলটি মনে করে, আনুপাতিক নির্বাচন ব্যবস্থা চালু হলে সব দলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত হবে এবং গণতন্ত্রের ভিত্তি আরও মজবুত হবে। তবে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো—বিএনপি এখনো এই পদ্ধতির বিরোধিতা করে আসছে, ফলে দুই দলের কৌশলে ভিন্নতা স্পষ্ট।
এছাড়া জামায়াতের পক্ষ থেকে নির্বাচনপূর্ব নিরপেক্ষ সরকার গঠন, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, ধর্মীয় ও রাজনৈতিক অধিকার নিশ্চিতকরণসহ সাত দফা দাবি উত্থাপন করা হয়।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এই সমাবেশ জামায়াতে ইসলামীকে রাজনীতির মূল স্রোতে ফেরানোর একটি প্রয়াস হতে পারে। তবে রাজনৈতিক সমীকরণে এ ধরনের ঘোষণার বাস্তবতা নির্ভর করবে ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার ওপর।