নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবুল কাশেমের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম, দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, এ বিষয়ে বিভিন্ন সময়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট শাখায় লিখিত অভিযোগ ও নথিপত্র জমা দেওয়া হলেও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো চূড়ান্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি।
অভিযোগে বলা হয়েছে, সৌদি আরবের রিয়াদে বাংলাদেশ দূতাবাসের পাসপোর্ট ও ভিসা উইংয়ে দায়িত্ব পালনকালে আবুল কাশেম বিভিন্ন অনিয়মের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। অভিযোগকারী পক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, পাসপোর্ট প্রক্রিয়াকরণে রাজস্ব ফাঁকি, অনিয়ম এবং প্রশাসনিক ক্ষমতার অপব্যবহারের ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি করা হয়েছে।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, স্থানীয় স্টাফদের আইডি ব্যবহার করে বিপুল সংখ্যক পাসপোর্ট প্রক্রিয়াকরণ করা হয়েছে এবং এ সংক্রান্ত বিভিন্ন পাসপোর্ট রিসিট নম্বর অভিযোগপত্রে সংযুক্ত রয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, সংশ্লিষ্ট রেকর্ড ও সফটওয়্যার লগ যাচাই করলে প্রকৃত তথ্য উদঘাটন করা সম্ভব হবে।
এছাড়া অভিযোগে বলা হয়েছে, পাসপোর্ট ও ভিসা উইংয়ের বিভিন্ন ধাপে একই ব্যক্তির প্রভাব ছিল এবং এনরোলমেন্ট, স্ক্যানিং, পেমেন্ট অনুমোদন, চূড়ান্ত অনুমোদন ও ডেলিভারি প্রক্রিয়ায় অনিয়ম সংঘটিত হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগকারী পক্ষ আরও দাবি করেছে যে, ২০১৭-২০১৮ সময়ে কিছু ভুয়া আইডি ব্যবহার করে পাসপোর্ট ইস্যুর ঘটনা ঘটেছে। এ বিষয়ে তারা সংশ্লিষ্ট সফটওয়্যার, ব্যবহারকারী আইডি এবং রেকর্ড পর্যালোচনার মাধ্যমে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
একই অভিযোগে সরকারি সিলমোহর ও প্রশাসনিক ক্ষমতার অপব্যবহারের বিষয়ও উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগকারীদের ভাষ্যমতে, এসব কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অবৈধ আর্থিক সুবিধা অর্জন করা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
নথিপত্র অনুযায়ী, সুরক্ষা সেবা বিভাগের প্রশাসন-১ শাখা থেকে ২০২২ সালে একাধিকবার বাংলাদেশ দূতাবাস, রিয়াদে অভিযোগের বিষয়ে তদন্তপূর্বক প্রতিবেদন চাওয়া হয়। সংশ্লিষ্ট স্মারক ও ইউও নোটের মাধ্যমে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে মতামতসহ প্রতিবেদন পাঠানোর অনুরোধ জানানো হয়েছিল বলে নথিতে উল্লেখ রয়েছে।
অভিযোগকারীদের দাবি, একাধিকবার পত্র দেওয়া হলেও দীর্ঘ সময় পর্যন্ত তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়া যায়নি। ফলে অভিযোগগুলোর বিষয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে এবং পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি আরও জোরালো হয়েছে।
অন্যদিকে, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ব্যক্তিগত কর্মকর্তা সোহাগ হোসেনের বিরুদ্ধেও প্রশাসনিক প্রভাব বিস্তার ও পদায়ন-সংক্রান্ত বিভিন্ন অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে। অভিযোগকারী সূত্রগুলোর দাবি, প্রশাসনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রভাব খাটিয়ে বদলি ও পদায়নের ক্ষেত্রে অনিয়ম হয়েছে।
স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি নাম প্রকাশ না করার শর্তে অভিযোগ করেছেন যে, আবুল কাশেমের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগগুলো তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন। তারা দাবি করেন, তার সম্পদ ও আর্থিক কর্মকাণ্ডের উৎস খতিয়ে দেখা উচিত।
প্রতিবেদনের বিষয়ে বক্তব্য নেওয়ার জন্য মোহাম্মদ আবুল কাশেম ও সোহাগ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা মনে করেন, অভিযোগগুলো যেহেতু গুরুতর, তাই সংশ্লিষ্ট নথি, আর্থিক লেনদেন, পাসপোর্ট রেকর্ড, প্রশাসনিক কার্যক্রম এবং সম্পদের উৎস নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা প্রয়োজন। অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং অভিযোগ মিথ্যা প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের দায়মুক্তি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
উল্লেখ্য, উত্থাপিত অভিযোগগুলোর বিষয়ে কোনো আদালত বা তদন্তকারী সংস্থার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এই প্রতিবেদনে উপস্থাপিত হয়নি। ফলে অভিযোগগুলোর সত্যতা নির্ধারণের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তের ওপর নির্ভরশীল।