নিজস্ব প্রতিবেদনঃ
চট্টগ্রাম নগরীর পতেঙ্গা থানাধীন ৪০ নম্বর ওয়ার্ডের স্টিল মিল সাইলো কলোনী খালপাড় এলাকায় গড়ে উঠেছে একটি সংঘবদ্ধ চাঁদাবাজ চক্রের দুর্ধর্ষ সাম্রাজ্য। এলাকাবাসীর অভিযোগ, এই চক্রের নেতৃত্বে রয়েছেন মোঃ তাজু—এক সময়ের আওয়ামী লীগের ঘনিষ্ঠ, বর্তমানে বিএনপির কেন্দ্রীয় আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপদেষ্টা কমিটির সদস্য।
তথ্য অনুসন্ধানে জানা যায়, আওয়ামী লীগের শাসনামলে তাজু নারী নেত্রীদের মাধ্যমে সংগঠনে প্রভাব বিস্তার করতেন। ৪০ নম্বর ওয়ার্ডে ইউনিট কমিটির সাধারণ সম্পাদক নেজাম উদ্দিন নাজ্জুর ছোট ভাই হিসেবে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে তার পরিচিতি ছিল সুবিস্তৃত। তবে বর্তমান প্রেক্ষাপটে তিনি হঠাৎ করেই বিএনপিতে যোগদান করেন এবং ধানের শীষের সম্ভাব্য প্রার্থী ইসরাফিল খসরু মাহমুদ চৌধুরীর ঘনিষ্ঠ হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন।
স্থানীয়রা বলছেন, দলবদলের এই নাটকীয় রূপান্তরের আড়ালে তাজু মূলত চাঁদাবাজির নিরাপদ আশ্রয় খুঁজে নিচ্ছেন। খালপাড়, মার্কেট ও ফুটপাত জুড়ে দখলদারি, ভয়ভীতি, চাঁদাবাজি ও অবৈধ ভাড়া আদায়ের মাধ্যমে এক ‘মাফিয়া সাম্রাজ্য’ গড়ে তুলেছেন তিনি। খালের দু’পাশে গড়ে ওঠা অবৈধ দোকানগুলো থেকে জামানত হিসেবে এককালীন ২০ হাজার টাকা, দৈনিক ভাড়া ১০০ টাকা এবং কারেন্ট বিলের নামে ৩০ টাকা করে আদায় করা হচ্ছে। এসব কার্যক্রমের নিয়ন্ত্রণে রয়েছেন তাজুর ঘনিষ্ঠ সহযোগী মোঃ জাহাঙ্গীর, মোঃ আব্বাস ও মোঃ আক্তার।
ভুক্তভোগী দোকান মালিকরা জানিয়েছেন, চাঁদা না দিলে ব্যবসা করতে দেওয়া হয় না। কেউ প্রতিবাদ করলেই তাকে হুমকি, ভয়ভীতি বা এলাকা ছাড়া করার চেষ্টা করা হয়। অনেক দোকানি তাজুকে ‘আওয়ামী লীগের দোসর’ হিসেবেও অভিহিত করেন, যিনি এখন বিএনপির ছত্রছায়ায় দাপট দেখাচ্ছেন।
তাদের ভাষ্য, তাজুর মতো ব্যক্তি কিভাবে প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে বছরের পর বছর চাঁদাবাজির এই সাম্রাজ্য চালিয়ে যাচ্ছেন, তা নিয়েই তারা বিস্মিত। তাজুর বিরুদ্ধে অভিযোগের পরিমাণ বাড়লেও কোনো প্রশাসনিক ব্যবস্থা এখনো দৃশ্যমান হয়নি।
এ বিষয়ে মোঃ তাজুর মোবাইলে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
স্থানীয় সচেতন নাগরিকদের দাবি, দলীয় পরিচয় নয় অপরাধ ও অবৈধ কর্মকাণ্ডের ভিত্তিতে তদন্ত করে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে। নয়তো এই ধরনের অপরাধীরা দলবদল করে আইন ও জনগণের মাথার উপর চড়ে বসে থাকবে।