
নিজস্ব প্রতিবেদক
একটি ইউনিয়ন পরিষদের সাধারণ মেম্বার হয়েও ক্ষমতার দাপটে রীতিমতো ‘অঘোষিত সম্রাট’ হয়ে উঠেছেন সবুর মেম্বার। গাছ চুরি থেকে শুরু করে জমি দখল, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে আধিপত্য বিস্তার এবং সাধারণ মানুষকে মারধরের মতো গুরুতর সব অভিযোগ এখন তার নামের পাশে। জনমনে এখন একটাই প্রশ্ন—এত অপরাধের পাহাড় গড়েও কেন এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে এই ‘কুলাঙ্গার’ সবুর?
দখলদারিত্বের মহোৎসব: নদী থেকে শ্মশান—বাকি নেই কিছু
সবুর মেম্বারের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় অভিযোগ হলো বেপরোয়া ভূমি দখল। স্থানীয়দের দাবি:
সাতানী গাছ বিক্রি: সরকারি বা যৌথ মালিকানার সাতানী গাছ বিক্রি করে প্রায় ৫০ লক্ষ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
নদী ও ফেরিঘাট দখল: ক্ষমতার অপব্যবহার করে ফেরিঘাটের জায়গা এবং খোদ নদীর ওপর অবৈধ স্থাপনা গড়ে তুলেছেন তিনি।
হিন্দু সম্পত্তি দখল: সংখ্যালঘুদের অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে তাদের পৈত্রিক সম্পত্তি জবরদখল করার অভিযোগ দীর্ঘদিনের।
বাইশারী এলাকা: বাইশারী এলাকায় প্রভাব খাটিয়ে সাধারণ মানুষের জমি দখলের মহোৎসবে মেতেছেন এই জনপ্রতিনিধি।
চাঁদাবাজি ও অনিয়মের আখড়া
খেয়া ঘাট থেকে শুরু করে শালিসি বৈঠক—সবখানেই চলে তার টাকার খেলা। অভিযোগ আছে যে:
খেয়া পারাপারে সরকার নির্ধারিত ভাড়ার তোয়াক্কা না করে প্রতিদিন প্রায় ২৫ হাজার টাকা অতিরিক্ত চাঁদা আদায় করা হচ্ছে।
বিচারের নামে ‘শালিসি বাণিজ্য’ করে সাধারণ মানুষের পকেট কাটছেন তিনি।
এমনকি মাদক ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে নিয়মিত মাসোহারা নিয়ে তাদের সুরক্ষা দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে তার বিরুদ্ধে।
ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে তান্ডব ও জালিয়াতি
সবুর মেম্বারের হাত থেকে রক্ষা পায়নি পবিত্র ধর্মীয় ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানও।
জালিয়াতির সভাপতি: জালিয়াতি ও প্রভাব খাটিয়ে স্থানীয় স্কুলের সভাপতির পদ দখল করেছেন।
মসজিদে জবরদস্তি: জোরপূর্বক মসজিদের সভাপতির পদ বাগিয়ে নিয়েছেন এবং ওয়াজ মাহফিলের টাকা আত্মসাতের মতো ঘৃণ্য কাজে লিপ্ত।
ইমামকে লাঞ্ছনা: মসজিদের ইমামকে শারীরিকভাব মারধরের মতো ন্যাক্কারজনক ঘটনাও ঘটিয়েছেন তিনি, যা নিয়ে এলাকায় তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে চ্যালেঞ্জ
সবচেয়ে ভয়াবহ তথ্য হলো, সবুর মেম্বারের দুঃসাহস এখন আকাশচুম্বী। জানা গেছে, তিনি তার নিজস্ব সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে থানার ভেতরে হামলা চালাতেও দ্বিধাবোধ করেননি। আইনের তোয়াক্কা না করে এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছেন তিনি।
জনগণের দাবি: “আমরা এই কুলাঙ্গার সবুর মেম্বারের প্রকাশ্য বিচার চাই। একজন জনপ্রতিনিধি কীভাবে এত অপরাধ করার পরও বুক ফুলিয়ে ঘুরে বেড়ায়? প্রশাসন কেন নীরব?” — ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী।
স্থানীয় সাধারণ মানুষের দাবি, অবিলম্বে তাকে গ্রেফতার করে কঠোর শাস্তির আওতায় আনা হোক এবং তার দ্বারা জবরদখল হওয়া সমস্ত সম্পত্তি প্রকৃত মালিকদের ফিরিয়ে দেওয়া হোক।