
নিজস্ব প্রতিবেদক, বানারীপাড়া:
বরিশালের বানারীপাড়ায় স্থানীয় প্রভাবশালী সবুর মেম্বারের বিরুদ্ধে একের পর এক গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। একদিকে সন্ধ্যা নদীর খেয়া পারাপারে সাধারণ মানুষের ‘পকেট কাটা’, অন্যদিকে সরকারিভাবে স্থগিত থাকা ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মসজিদের অনুদান পত্রে রহস্যজনক স্বাক্ষরের ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয় প্রশাসন এসব বিষয়ে ‘নীরব’ ভূমিকা পালন করায় সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
ইসলামিক ফাউন্ডেশনের অনুদানে অনিয়ম:
নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ইসলামিক ফাউন্ডেশন থেকে মসজিদের জন্য সরকারি ‘হাদিয়া’ বা অনুদান দেওয়ার একটি আবেদন প্রক্রিয়া বর্তমানে সরকারি নির্দেশনায় স্থগিত রয়েছে। অথচ অভিযোগ উঠেছে, পদ স্থগিত থাকা সত্ত্বেও সবুর মেম্বার নিয়মবহির্ভূতভাবে ওই আবেদনপত্রে স্বাক্ষর করেছেন। এই খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় ধর্মপ্রাণ মুসল্লি ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক উত্তেজনা তৈরি হয়। প্রশ্ন উঠেছে, সরকারিভাবে কার্যক্রম স্থগিত থাকার পরও তিনি কীভাবে এবং কোন ক্ষমতাবলে স্বাক্ষর করলেন?
খেয়াঘাটে ভাড়ার নৈরাজ্য:
এদিকে বানারীপাড়া ফেরিঘাট ও সন্ধ্যা নদীর খেয়া পারাপারে সবুর মেম্বার সিন্ডিকেটের ‘চাঁদাবাজি’ থামছেই না। সরকার নির্ধারিত ভাড়ার তোয়াক্কা না করে যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা আদায় করা হচ্ছে। প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ এই ঘাট দিয়ে যাতায়াত করলেও তারা কার্যত এই সিন্ডিকেটের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছেন। প্রতিবাদ করলেই সাধারণ মানুষকে হেনস্তার শিকার হতে হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
প্রশাসনের নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন:
সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, খেয়াঘাটের অতিরিক্ত ভাড়া আদায় এবং সরকারি অনুদান সংক্রান্ত জালিয়াতির বিষয়ে অভিযোগ থাকলেও উপজেলা প্রশাসন এখন পর্যন্ত কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেয়নি। প্রশাসনের এই ‘নিরবতা’ সরাসরি অপরাধীদের প্রশ্রয় দিচ্ছে বলে দাবি করছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
জনগণের দাবি:
এলাকাবাসী অবিলম্বে সবুর মেম্বারের এসব কর্মকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত এবং খেয়াঘাটে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বন্ধের দাবি জানিয়েছেন। বিশেষ করে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের অনুদান নিয়ে যে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে, তার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য জেলা প্রশাসকের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।