
নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল
বরিশালের বানারীপাড়া উপজেলার বাইশারী ইউনিয়নের দত্তপাড়া গ্রামে অবস্থিত কয়েকশ বছরের প্রাচীন সাতানি জমিদারবাড়িটি এখন ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে। একসময়ের জাঁকজমকপূর্ণ আভিজাত্যের প্রতীক এই ঐতিহাসিক স্থাপনাটি এখন অসাধু ব্যক্তিদের কবলে পড়ে তার অস্তিত্ব হারাতে বসেছে।
ইতিহাস ও ঐতিহ্যের করুণ দশা
বাংলার সমৃদ্ধ ইতিহাসের সাক্ষী এই জমিদারবাড়িটি পর্যটক এবং ইতিহাসপ্রেমীদের কাছে সবসময়ই এক অনন্য গন্তব্য ছিল। এর কারুকার্যময় দেয়াল আর বিশাল আঙিনা আজও দর্শনার্থীদের মুগ্ধ করে। তবে রক্ষণাবেক্ষণের অভাব এবং স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী অসাধু চক্রের লালসার কারণে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হচ্ছে এই প্রাচীন নিদর্শন।
গাছ কেটে সাবাড়, ধ্বংস হচ্ছে পরিবেশ
সরেজমিনে দেখা গেছে, জমিদারবাড়ির চারপাশের প্রাচীন গাছগুলো একের পর এক কেটে বিক্রি করে দিচ্ছে একটি স্বার্থান্বেষী মহল। বাড়ির আঙিনা এবং চারপাশের প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষা করত যে বিশাল বৃক্ষরাজি, তা এখন বিলীন হয়ে যাচ্ছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, প্রশাসনের নজরদারির অভাবে এই চক্রটি দিনের পর দিন এই ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়ে যাচ্ছে।
“সাতানি জমিদারবাড়ি শুধু একটি ভবন নয়, এটি আমাদের বরিশালের গর্ব। কিন্তু যেভাবে গাছ কাটা হচ্ছে এবং বাড়িটির ক্ষতি করা হচ্ছে, তাতে মনে হয় অচিরেই এই স্মৃতিচিহ্নটি শুধু বইয়ের পাতায় থেকে যাবে।” — স্থানীয় এক বাসিন্দা।
রক্ষার আকুতি
ইতিহাসবিদদের মতে, এই জমিদারবাড়িটি সংস্কার করে পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব ছিল। কিন্তু তার উল্টো চিত্র এখন দৃশ্যমান। প্রাচীন এই স্থাপনার ইট-পাথর থেকে শুরু করে প্রাঙ্গণের গাছ—সবই এখন লুটপাটের শিকার। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে অচিরেই মাটির সাথে মিশে যাবে এই অমূল্য প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন।
দাবি: এলাকাবাসী ও সচেতন মহল এই অসাধু চক্রের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ এবং সাতানি জমিদারবাড়িটি সংরক্ষণে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।