
শাকিল আহম্মেদঃ-
বরিশাল–বানারীপাড়া মহাসড়কের ক্লাব এলাকা থেকে চৌয়ারীপাড়া পর্যন্ত সড়কের বেহাল অবস্থা জনদুর্ভোগের চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে। দীর্ঘদিন ধরে সড়কের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্ত, ভাঙাচোরা অংশ এবং খানাখন্দের কারণে প্রতিদিনই ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। স্থানীয়দের ভাষায়, এটি এখন আর সাধারণ একটি সড়ক নয়,বরং একটি “মৃত্যুফাঁদ”।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, দিনের পাশাপাশি রাতের বেলাতেও এই সড়কে চলাচল অত্যন্ত বিপজ্জনক হয়ে ওঠে। মোটরসাইকেল, অটোরিকশা, ভ্যান, প্রাইভেটকার, বাস ও ট্রাকসহ বিভিন্ন যানবাহন প্রায়ই দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে। বিশেষ করে বৃষ্টির সময় গর্তগুলো পানিতে ঢেকে যাওয়ায় চালকদের জন্য বিপদ আরও কয়েকগুণ বেড়ে যায়।
এলাকাবাসী জানান, এই সড়কে দুর্ঘটনা এখন প্রায় নিত্যদিনের ঘটনা। ছোট-বড় অসংখ্য দুর্ঘটনায় অনেকেই আহত হয়েছেন এবং ইতোমধ্যে কয়েকজনের প্রাণহানির ঘটনাও ঘটেছে। দুর্ঘটনার কারণে বহু পরিবার তাদের প্রিয়জনকে হারিয়ে শোকাহত হলেও এখন পর্যন্ত সড়কটির স্থায়ী সংস্কারে কার্যকর কোনো উদ্যোগ চোখে পড়েনি বলে অভিযোগ তাদের।
স্থানীয়দের দাবি, বারবার বিষয়টি সংশ্লিষ্ট প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষের নজরে আনা হলেও বাস্তবসম্মত কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। মাঝে মাঝে সাময়িকভাবে কিছু অংশে মেরামতের কাজ করা হলেও অল্প সময়ের মধ্যেই সড়কটি আবার আগের অবস্থায় ফিরে যায়। ফলে দুর্ভোগ কমার পরিবর্তে দিন দিন আরও বাড়ছে।
এ পথ দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ কর্মস্থল, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল ও ব্যবসায়িক কাজে যাতায়াত করেন। সড়কের এমন নাজুক অবস্থার কারণে সময়মতো গন্তব্যে পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়েছে। পাশাপাশি যানবাহনের ক্ষয়ক্ষতি ও যাতায়াত ব্যয়ও বৃদ্ধি পাচ্ছে।
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, দ্রুত ও টেকসইভাবে সড়কটির সংস্কার না করা হলে ভবিষ্যতে আরও বড় ধরনের দুর্ঘটনা এবং প্রাণহানির আশঙ্কা রয়েছে। তাই তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি দ্রুত জরুরি ভিত্তিতে সড়কটি সংস্কারের উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন।
এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, প্রশাসন, সড়ক বিভাগের দায়িত্বশীল কর্মকর্তা এবং নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। একটি নিরাপদ ও চলাচল উপযোগী সড়ক শুধু জনদুর্ভোগ কমাবে না, বরং সম্ভাব্য প্রাণহানিও রোধ করবে।
সাধারণ মানুষের একটাই প্রশ্ন, আর কত দুর্ঘটনা, আর কত প্রাণহানির পর এই গুরুত্বপূর্ণ সড়কের দিকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজর পড়বে?