
মাইদুল ইসলাম রনি বানারীপাড়া প্রতিনিধি:
বরিশালের বানারীপাড়ায় পারিবারিক জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলরের ভাই মোঃ বাবু মোল্লাকে মিথ্যা চুরির মামলায় জড়িয়ে হয়রানি করার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, মূল ঘটনা আড়াল করতে এবং জমি দখলের উদ্দেশ্যে মাকসুদা বেগম ও তার বর্তমান স্বামী পরিকল্পিতভাবে এই ভিত্তিহীন মামলাটি দায়ের করেছেন।
ঘটনার নেপথ্যে যা জানা গেছে:
সরেজমিনে তদন্ত ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মাহিন্দ্র স্ট্যান্ড সংলগ্ন একটি দোকানের মালিকানা নিয়ে মৃত মনিরুল আলম মিঠু মোল্লার ভাই বাবু মোল্লার সাথে তার ভাবি মাকসুদা বেগমের দীর্ঘদিনের পারিবারিক বিরোধ চলছে। এই বিরোধ মীমাংসার জন্য একাধিকবার শালিস বৈঠক হলেও কোনো সমাধান হয়নি। অভিযোগ উঠেছে, সেই পারিবারিক শত্রুতার জেরে গত ২৭ এপ্রিল মাকসুদা বেগম বাদী হয়ে বাবু মোল্লার বিরুদ্ধে দোকানে ঢুকে ৩১ হাজার টাকা চুরির একটি নাটক সাজান।
মিথ্যা চুরির দাবি ও ব্যবসায়ী মিজানুর রহমানের ভূমিকা:
মামলায় ব্যবসায়ী মিজানুর রহমানের দোকান থেকে চুরির কথা উল্লেখ করা হলেও স্থানীয় নির্ভরযোগ্য সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, মিজানুর রহমানের সাথে বাবু মোল্লার কোনো ঝামেলা হয়নি এবং সেখানে কোনো চুরির ঘটনাও ঘটেনি। মূলত মাকসুদা বেগমের প্ররোচনায় এবং বাবু মোল্লাকে সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করতেই এই মিথ্যা তথ্যের অবতারণা করা হয়েছে।
অভিযোগকারিণীর বিরুদ্ধে প্রতারণার পাল্টা অভিযোগ:
এদিকে অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। অভিযোগকারিনী মাকসুদা বেগম ও তার বর্তমান স্বামীর বিরুদ্ধে বিদেশে লোক পাঠানোর নাম করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। একাধিক ভুক্তভোগীর সাথে কথা বলে জানা গেছে, এই চক্রটি জাল ডকুমেন্ট ও ভুয়া চেকের মাধ্যমে সহজ-সরল মানুষকে প্রতারিত করে পথে বসিয়েছে। স্থানীয়রা মনে করছেন, নিজেদের এই বিশাল প্রতারণা ও অপকর্ম ঢাকতেই তারা বাবু মোল্লার মতো একজন ব্যক্তিকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে জনদৃষ্টি ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করছেন।
সুষ্ঠু তদন্তের দাবি:
বাবু মোল্লার পরিবার ও এলাকাবাসীর দাবি, কোনো প্রকার নিরপেক্ষ তদন্ত ছাড়াই তাকে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। তারা এই মিথ্যা মামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন এবং মাকসুদা বেগম ও তার স্বামীর প্রতারক চক্রের দ্রুত বিচার দাবি করেছেন। প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে আবেদন জানানো হয়েছে যেন সঠিক তদন্তের মাধ্যমে নির্দোষ বাবু মোল্লাকে মুক্তি দেওয়া হয় এবং প্রকৃত প্রতারকদের আইনের আওতায় আনা হয়।