
নিম্নচাপ ও অমাবস্যার জোয়ারে বিধ্বস্ত জাতীয় উদ্যান, উপড়ে যাচ্ছে গাছপালা
নিজস্ব প্রতিবেদক, কুয়াকাটা || ২৬ জুলাই ২০২৫, শনিবার
অমাবস্যা ও বঙ্গোপসাগরের নিম্নচাপের প্রভাবে ভয়াবহ ভাঙনের কবলে পড়েছে দেশের দক্ষিণের প্রধান পর্যটন কেন্দ্র কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত। টানা দুই দিনের জোয়ারে সৃষ্ট তীব্র ঢেউয়ের আঘাতে
শনিবার (২৬ জুলাই) সকাল ১১টায় কুয়াকাটার হোসেনপাড়া ও ঝাউবাগান সংলগ্ন এলাকায় বিপর্যস্ত স্থানীয়রা মানববন্ধনে অংশ নেন। সৈকতের অব্যাহত ভাঙন রোধে দ্রুত টেকসই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণে সরকারের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেন তারা।
ব্যবসায়ী, শিক্ষক, সাংবাদিক, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এতে অংশ নেন।
স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, সৈকতের প্রায় ২৮ কিলোমিটার জুড়ে বালু সরে গিয়ে নিচের মাটি বেরিয়ে এসেছে, যা সরাসরি পর্যটন খাতকে হুমকির মুখে ফেলছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড জানায়, কুয়াকাটার হোসেনপাড়ায় সড়কের প্রায় ৩০ মিটার অংশ সাগরে বিলীন হয়েছে। ডিসি পার্কের পাশেও নতুন ভাঙন শুরু হয়েছে। উপড়ে গেছে বহু গাছপালা, তলিয়ে গেছে নিচু এলাকা।
মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন—
বিএনপির কুয়াকাটা পৌর শাখার সাধারণ সম্পাদক মতিউর রহমান হাওলাদার
জামায়াত ইসলামের সাবেক আমির মাও: মাইনুল ইসলাম মান্নান
কুয়াকাটা প্রেসক্লাব সভাপতি রুমান ইমতিয়াজ তুষার
ট্যুর অপারেটর অ্যাসোসিয়েশন সম্পাদক জহিরুল ইসলাম
অনলাইন সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি মামুনুর রশীদ নোমানী
বরিশাল ব্যুরো চিফ মামুন-অর-রশিদ কুয়াকাটা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক খলিলুর রহমান
বক্তারা বলেন, “সৈকতের সৌন্দর্য, পরিবেশ ও অবকাঠামো ধ্বংসের ফলে পর্যটকদের আগ্রহ কমে যাচ্ছে। পর্যটন অর্থনীতি আজ চরম হুমকির মুখে।”
তারা দ্রুত বালু রক্ষায় জিও ব্যাগ ও স্লোপ নির্মাণ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন, অবৈধ দখলমুক্তকরণ এবং ট্যুরিস্ট ফ্যাসিলিটিজ বৃদ্ধির দাবিতে সরকারের জরুরি হস্তক্ষেপ চান।
বিশ্লেষণ:
কুয়াকাটা বাংলাদেশের একমাত্র জায়গা, যেখান থেকে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত দুটোই দেখা যায়। এ সৈকতের ক্ষতি মানে দেশের পর্যটন খাতের ক্ষতি। অথচ এখনো দৃশ্যমান কোনো টেকসই ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।
এখনই পদক্ষেপ না নিলে কুয়াকাটার অস্তিত্বই বিপন্ন হয়ে পড়বে—এমন সতর্ক বার্তা দিচ্ছেন এলাকাবাসী ও বিশেষজ্ঞরা।