
সাঈদ ইবনে হানিফ, যশোর প্রতিনিধি
যশোরের বসুন্দিয়া এলাকায় অবস্থিত সিঙ্গিয়া রেলস্টেশন থেকে সমস্ত সিলিং ফ্যান ও বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম খুলে নিয়ে গেছে রেলওয়ের বিদ্যুৎ বিভাগ। রেলওয়ের বিদ্যুৎ ও পরিবহন বিভাগের মধ্যকার প্রশাসনিক দ্বন্দ্বের জেরে এই ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে। এতে যাত্রী সাধারণ এবং রেলস্টেশন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীরা পড়েছেন চরম ভোগান্তিতে।
জানা যায়, গত শনিবার (২৬ জুলাই) বিদ্যুৎ বিভাগের সিনিয়র উপ-সহকারী প্রকৌশলী (বিদ্যুৎ) জাকির হোসেন স্টেশন ভবন থেকে আটটি যাত্রী বিশ্রামাগার ফ্যান, তিনটি টিকিট কাউন্টার ফ্যান, চারটি অফিস কক্ষের ফ্যান ও পাঁচটি এডজাস্ট ফ্যান খুলে নিয়ে যান। এছাড়া স্টেশন মাস্টারের কক্ষে স্থাপিত এয়ার কন্ডিশনের বিদ্যুৎ সংযোগও বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়েছে।
রেলওয়ে সূত্র জানায়, পদ্মাসেতু রেল প্রকল্প চালু হওয়ার পর সিঙ্গিয়া স্টেশনের গুরুত্ব অনেক বেড়েছে। খুলনা থেকে ঢাকাগামী ‘জাহানাবাদ এক্সপ্রেস’ এখন এই স্টেশন হয়ে চলাচল করছে। সিঙ্গিয়া স্টেশনে নতুন ভবন নির্মাণসহ আধুনিক সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়া হলেও, ফ্যান ও অন্যান্য বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম হঠাৎ করে সরিয়ে নেওয়ায় সেই উন্নয়ন কার্যত প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে।
ঘটনার পেছনে বিদ্যুৎ ও পরিবহন বিভাগের দ্বন্দ্বের বিষয়টি উঠে এসেছে। পরিবহন বিভাগের অধীনে থাকা স্টেশন মাস্টার কেএম রিয়াদ হাসান সরঞ্জাম বুঝে নিতে অস্বীকৃতি জানালে, বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তারা নিজেরাই তা খুলে নিয়ে যান। রেলওয়ের নিয়ম অনুযায়ী, বৈদ্যুতিক সরঞ্জামের সংরক্ষণ, মেরামত ও স্থানান্তরের দায়িত্ব বিদ্যুৎ বিভাগের হলেও, সরঞ্জাম বুঝে নেওয়ার জন্য পরিবহন বিভাগের সহায়তা প্রয়োজন হয়।
এ ঘটনায় স্টেশন মাস্টার কেএম রিয়াদ হাসান পাকশী বিভাগীয় পরিবহন কর্মকর্তা বরাবর লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন। তিনি বলেন,
এ বিষয়ে পাকশী বিভাগীয় পরিবহন কর্মকর্তা হাসিনা খাতুন বলেন,
“লিখিত অভিযোগ পেয়েছি এবং তা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে।”
অন্যদিকে, অভিযুক্ত প্রকৌশলী জাকির হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করলে তার মোবাইল ফোনে থাকা এক নারী কল রিসিভ করে জানান,
“তিনি (জাকির হোসেন) অসুস্থ। বর্তমানে কথা বলতে পারবেন না।”
স্থানীয় যাত্রীদের অভিযোগ, প্রচণ্ড গরমে যাত্রী বিশ্রামাগারে বসে থাকা দায় হয়ে উঠেছে। টিকিট কাউন্টার ও অফিস কক্ষে ফ্যান না থাকায় দায়িত্ব পালনেও সমস্যা হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ এবং প্রশাসনিক দুর্বলতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
রেলপথ মন্ত্রণালয় এবং পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ কী পদক্ষেপ নেয়, এখন তা দেখার অপেক্ষায় স্থানীয়রা।