
উজিরপুর (বরিশাল) প্রতিনিধি: বরিশালের উজিরপুর উপজেলার মালিকান্দা গ্রামের হিন্দু ধর্মাবলম্বী সমাজসেবক রঞ্জিত কুমার রায় স্থানীয় এক প্রভাবশালী ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রাণনাশের হুমকি ও জমি দখলের অভিযোগ তুলেছেন। তিনি তাঁর ও পরিবারের জীবন ও সম্পত্তির নিরাপত্তা চেয়ে বাংলাদেশ পুলিশের মহা পরিদর্শক বরাবর লিখিত আবেদন করেছেন।
রঞ্জিত কুমার রায় জানান, তিনি বহু বছর ধরে এলাকায় সম্মানের সঙ্গে সমাজসেবা ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে যুক্ত রয়েছেন। কিন্তু সম্প্রতি স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তি এনায়েত করিম (পিতা: মৃত আব্দুল মান্নান, সাকিন: মালিকান্দা, ডাকঘর: চৌধুরীর হাট, থানা: উজিরপুর, জেলা: বরিশাল) কলেজ স্থাপনের অজুহাতে তাঁর জমি জবরদখলের পাঁয়তারা শুরু করেছেন।
রঞ্জিতের ভাষায়, “২০১৩ সালের ১ ডিসেম্বর এনায়েত করিমের সঙ্গে একটি চুক্তি হয়েছিল। সে সময় তিনি কলেজের নামে জমি নিতে চেয়েছিলেন এবং ৩ লক্ষ ৯০ হাজার টাকা আমাকে দিয়েছিলেন। কিন্তু পরে আমি সেই টাকাটি ফেরত দিয়ে চুক্তি বাতিল করি। অর্থাৎ, আমার কোনো দায় বা পাওনা তার কাছে ছিল না।”
তিনি আরও বলেন, “১২ বছর পর হঠাৎ করে এনায়েত করিমের লোকজন এসে বলে—‘এক একর জমি কলেজের নামে লিখে দে, না হলে তোদের কাউকে বাঁচতে দেব না।’ তারা আমার বাড়ির সামনে এসে গালাগালি করে, ভয় দেখায়, এমনকি বলে ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দেবে। আমি তো তার টাকা বহু আগেই ফেরত দিয়েছি, তবুও এখন জোর করে জমি নিতে চাইছে।”
অভিযোগে বলা হয়েছে, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৫ তারিখে এনায়েত করিমের নির্দেশে কয়েকজন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি রঞ্জিতের বাড়িতে গিয়ে একাধিকবার ভয়ভীতি প্রদর্শন করে এবং হুমকি দেয়। এতে আতঙ্কে তাঁর স্ত্রী অসুস্থ হয়ে অজ্ঞান হয়ে পড়েন। রঞ্জিত এখন পরিবার-পরিজন নিয়ে গভীর উদ্বেগ ও আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন।
তিনি আরও বলেন, “এনায়েত করিম খুবই প্রভাবশালী। তার আশপাশে একদল যুব সন্ত্রাসী আছে, যারা তার কথায় যেকোনো কিছু করতে পারে। এলাকার কেউ তার অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে সাহস পায় না। স্থানীয় প্রশাসনও তার বিরুদ্ধে নীরব।”
এই ঘটনার পর রঞ্জিত কুমার রায় পুলিশ মহা পরিদর্শক বরাবর লিখিত অভিযোগপত্র পাঠিয়েছেন, যেখানে তিনি জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে অনুরোধ জানিয়েছেন—
“হুজুর, আমি পরিবার-পরিজন নিয়ে মহা আতঙ্কে আছি। দয়া করে তার হাত থেকে আমার জান-মালের নিরাপত্তা রক্ষায় আইনানুগ ব্যবস্থা নিন।”
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রঞ্জিত কুমার রায় একজন জনপ্রিয় সমাজসেবক এবং এলাকার শান্তিপ্রিয় ব্যক্তি। তিনি সবসময় স্থানীয় উন্নয়নমূলক কাজে অংশগ্রহণ করেন। তাঁর বিরুদ্ধে কোনো বিরূপ অভিযোগ আগে কখনও ওঠেনি।
অন্যদিকে, অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে স্থানীয়রা জানান, এনায়েত করিমের প্রভাব ও ক্ষমতা এমন যে, তার বিরুদ্ধে কেউ সহজে মুখ খোলার সাহস পায় না। তবে যে কোনো প্রকার জোরপূর্বক জমি দখল বা ভয়ভীতি প্রদর্শন করা দণ্ডনীয় অপরাধ। পুলিশ প্রশাসনের উচিত দ্রুত ঘটনাটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা।
এ বিষয়ে উজিরপুর থানার কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তাঁদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।