
নিজস্ব প্রতিবেদকঃ রাজনৈতিক অঙ্গনে সংগঠনকে উপেক্ষা করে ব্যক্তি কেন্দ্রিক রাজনৈতিক সুবিধা দেওয়ার ঘটনা বাংলাদেশে নতুন নয়। তবে এবার ভিন্নচিত্র দেখা গেছে বরিশাল মহানগরীর ১২ নং ওয়ার্ড বিএনপি তে।জানা গেছে, নগরীর ১২ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক স্বপন মিয়াকে একই ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক লুৎফর রহমান নিজস্ব ছত্রছায়ায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানে অংশীদার ও ব্যবসায়ীক পার্টনার বানিয়ে সুযোগ সুবিধা দিচ্ছেন সমানতালে। গত ২৪ শে ডিসেম্বর’২৪ তারিখে আমতলা পানির ট্যাংক সংলগ্ন “কিশোর মজলিস” এক সভায় স্বপন মিয়ার উপস্থিতিতে তাকে এই সংগঠনের সহ-সভাপতি পদে মনোনীত করা হয়। আরও উপস্থিত ছিলেন ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি শহিদুল ইসলাম , সাধারণ সম্পাদক সহ অন্যান্য বিএনপির নেতাকর্মীরা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় বিএনপির একাধিক নেতা জানান, হামলা-মামলা সহ্য করে দলের পাশে ছিলেন তারা। অথচ ত্যাগীদের মূল্যায়ন না করে এক সময়কার আওয়ামী লীগ নেতাকে বিএনপির সাধারণ সম্পাদক লুৎফর রহমান পাশে নিয়ে বক্তব্য দেওয়া ও নতুন কমিটি তে পদ ভাগিয়ে দেওয়া তাদের জন্য লজ্জাজনক।
তাছাড়া যাদের কারণে অতীতে নিপীড়নের শিকার হয়েছেন, তারাই আজ দলের নেতা-কর্মীদের ম্যানেজ করে এলাকায় চলছেন বীরদর্পে। এতে শুধু আত্মসম্মানই ক্ষুণ্ন হচ্ছে না, সাধারণ মানুষের কাছেও দলের ভাবমূর্তি নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হচ্ছে।সরেজমিন তদন্তে বেড়িয়ে আসছে থলের বিড়াল। ওয়ার্ড বিএনপি নেতা লুৎফর রহমান ও আওয়ামী দোসর স্বপন মিয়া সম্পর্কে হন মামা-ভাগ্নে। একজন আরেকজনকে সাপোর্ট দিয়ে দলীয় নীতিমালা ভঙ্গ করে ভাগ-বাঁটোয়ারা করে চলছেন দীর্ঘদিন। আমতলায় সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে এতিমখানায় দীর্ঘদিন যাবত খাবারের ঠিকাদারি করেন লুৎফর রহমান।
বিগত আওয়ামী শাসনামলেও কাজ পাইয়ে দেওয়ার বিনিময়ে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিতেন স্বপন মিয়া।
জনমনে প্রশ্ন, বিগত ফ্যাসিস্ট আমলেও লুৎফর রহমান কিভাবে ঠিকাদারি করতেন এবং যখন দলীয় সকল কর্মীরা দিনের পর দিন জেল জুলুমের স্বীকার হন তখনও তিনি একচেটিয়া টিকে ছিলেন জেল জুলুমবিহীন।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে লুৎফর রহমান কে একাধিকবার ফোন করলেও তিনি রিসিভ করেননি ।
মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব জিয়াউদ্দিন সিকদার সাংবাদিকদের বলেন – জননেতা জনাব তারেক রহমানের স্পষ্ট বার্তা যে, আওয়ামিলীগের কোন নেতার সাথে যদি কারো ছবি পাওয়া যায় তাহলে সে বিএনপির কোন পদে থাকতে পারবেনা। আমি বিষয়টি খতিয়ে দেখি, যদি সত্যতা পাওয়া যায় তাহলে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।