
শাকিল আহম্মেদ বরিশালঃ
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বরিশাল-৫ (সদর) আসনে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের সমর্থনে আয়োজিত বর্ণাঢ্য মোটরসাইকেল শোভাযাত্রা শুক্রবার শহরজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে আয়োজিত এই শোভাযাত্রা কয়েক কিলোমিটার দীর্ঘ মোটরবহরে রূপ নেয়। এতে কয়েক হাজার মোটরসাইকেল, হাজারো নেতা-কর্মী এবং সাধারণ সমর্থক স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন।
বেলসপার্ক থেকে শুরু পুরো শহর এক উৎসবে পরিণত, ২১ নভেম্বর সকাল ৯টায় নগরীর বেলসপার্ক প্রাঙ্গণ থেকে শোভাযাত্রাটি শুরু হয়ে লঞ্চঘাট, সদর রোড, হাসপাতাল রোড, নথুল্লাবাদ, ঢাকা–বরিশাল মহাসড়ক, রুপাতলী, দপদপিয়া সেতু, ভোলা–বরিশাল সড়ক ও সাহেবেরহাট এলাকা অতিক্রম করে পুনরায় বেলসপার্কে এসে শেষ হয়। পুরো রুটে জনতার উপস্থিতি শোভাযাত্রাকে রূপ দেয় এক অনন্য গণসমাবেশে।
মোটরশোভাযাত্রার নেতৃত্ব দেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও বরিশাল-৫ (সদর) আসনের প্রার্থী অ্যাডভোকেট মুয়াযযম হোসাইন হেলাল।
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন,
বরিশাল মহানগর আমির ও বরিশাল-৩ (বাবুগঞ্জ–মুলাদী) আসনের প্রার্থী অধ্যক্ষ জহির উদ্দিন মুহাম্মদ বাবর, নায়েবে আমির প্রফেসর মাহমুদ হোসাইন দুলাল, মহানগর সেক্রেটারি মাওলানা মতিউর রহমান, ঝালকাঠি-২ আসনের প্রার্থী শেখ নেয়ামুল করিমসহ বিভিন্ন স্তরের নেতা-কর্মী।
এছাড়া ছাত্রশিবির, যুব বিভাগ, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন, পেশাজীবী ফোরাম, আইনজীবী ফোরাম, ন্যাশনাল ডক্টরস ফোরাম, ব্যবসায়ী ফোরাম ও সাংস্কৃতিক বিভাগের কর্মীরাও বিশাল উৎসাহ নিয়ে অংশ নেন।
শোভাযাত্রার উদ্বোধনী বক্তব্যে অ্যাডভোকেট মুয়াযযম হোসাইন হেলাল বলেন,
“আজকের এই বিশাল শোভাযাত্রা কোনো শক্তির প্রদর্শন নয়; এটি ইসলামের পক্ষে গণজাগরণের বাস্তবচিত্র। মানুষ দুনিয়াবী মতবাদের প্রতি আস্থা হারিয়ে ইসলামী ন্যায়বিচারের রাজনীতিতে ফিরে আসছে দাঁড়িপাল্লার গণজোয়ারই তার প্রমাণ। আমরা বিশ্বাস করি, আগামীর বাংলাদেশ হবে ইসলামের বাংলাদেশ; আগামীর বরিশাল হবে দাঁড়িপাল্লার বরিশাল।”
পথসভা শহরজুড়ে গণউদ্দীপনা, নথুল্লাবাদ, রুপাতলী, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে, দিনারের পুল ও সাহেবেরহাট এলাকায় সংক্ষিপ্ত পথসভা অনুষ্ঠিত হয়। এসব সভায় অ্যাডভোকেট হেলাল বলেন,
“বরিশাল সদর আসনে দাঁড়িপাল্লার পক্ষে যে গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে, এই জোয়ারকে ঐক্যবদ্ধ শক্তিতে রূপান্তর করতে পারলে রাজনৈতিক সমীকরণ পাল্টে যাবে।”
শোভাযাত্রা বিভিন্ন এলাকা অতিক্রম করার সময় রাস্তার দু’পাশে দাঁড়িয়ে স্থানীয়রা হাত নেড়ে শোভাযাত্রাকে স্বাগত জানান। গ্রামীণ ঘরবাড়ি থেকে শিশু, কিশোর ও তরুণরা দৌড়ে এসে শোভাযাত্রায় যোগ দেয়। নারীরা ঘরের আঙিনা থেকে বর্ণাঢ্য মোটরবহর দেখে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন।
সব অংশগ্রহণকারীর গায়ে ছিল বিশেষ স্লোগানযুক্ত টি-শার্ট। দুই সারিতে সুশৃঙ্খলভাবে এগিয়ে যাওয়া হাজারো মোটরসাইকেল পথচারীদের নজর কাড়ে। প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন,
“৫ আগস্টের পর থেকে জামায়াত ধারাবাহিকভাবে মানুষের পাশে আছে। কোনো বিশৃঙ্খলায় না জড়িয়ে ইতিবাচক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাওয়ার ফলে জামায়াতের প্রতি জনগণের আস্থা বেড়েছে। নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে ভোটের হিসাব নতুনভাবে লেখা হতে পারে।”