
মাইদুল ইসলাম রনি বানারীপাড়াঃ
বরিশালের বানারীপাড়া উপজেলার শিয়ালকাঠি খেয়াঘাটে খেয়া পারাপারের সময় ভাড়া সংক্রান্ত তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে যাত্রী ও স্থানীয় বিএনপি নেতার ওপর অমানবিক হামলার অভিযোগ উঠেছে ঘাটের ইজারাদার মোঃ সবুর খানের লোকজনের বিরুদ্ধে।
বুধবার সকাল ১০টা ৪৫ মিনিটের দিকে এ ঘটনাটি ঘটে। ভুক্তভোগী মোঃ মাহবুব, যিনি ইলুহার ইউনিয়ন বিএনপির স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক এবং উপজেলা মৎস্যজীবী দলের সহ-সভাপতি, অভিযোগ করেন—ঘাটে নিয়মিত ভাড়া পরিশোধের পরও ইজারাদারের লোকজন তার কাছে একটি কাগজের “নোট” দাবি করে। তিনি বিষয়টি জানতে চাইলে তাকে “গাঁজাখোর”, “নেশাখোর” বলে অপমান করে এবং অযথা শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করে।
ঘটনার পর মাহবুব সাংবাদিকদের জানান,
“আমি নিয়মিত ভাড়া দিয়েছি, তবু তারা আমাকে রাজনৈতিক কারণে হেয় করেছে। সবুর খানের লোকজন প্রকাশ্যে আমাকে মারধর করেছে এবং গালাগালি করেছে। আমি আইনের সঠিক বিচার চাই।”
ঘটনাটি স্থানীয়ভাবে ছড়িয়ে পড়লে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়। অনেকেই ভিডিও ও ছবি পোস্ট করে ঘাটের অনিয়ম, চাঁদাবাজি ও ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ তোলেন।
স্থানীয় যাত্রীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,
> “আমরা প্রতিদিন শিয়ালকাঠি ঘাট দিয়ে পারাপার করি। যখন যা ভাড়া চায় তাই দিতে হয়। কেউ প্রতিবাদ করলে হামলার শিকার হতে হয়। আমরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। শুনি সবুরের টাকায় বিএনপিও চলে—তাই কেউ কিছু বলে না।”
এলাকাবাসীর অভিযোগ, জেলা প্রশাসকের নির্দেশনা ও উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদকের নির্দেশ উপেক্ষা করে ঘাটে প্রতিদিন ইচ্ছেমতো ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। ঘাটে কোনো তালিকা বা সরকারি নির্ধারিত হার মানা হয় না।
এ বিষয়ে উপজেলা মৎস্যজীবী দলের একাধিক নেতা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,
> “একজন দলের নিবেদিতপ্রাণ নেতার সঙ্গে এমন আচরণ অগ্রহণযোগ্য। আমরা প্রশাসনের কাছে দ্রুত তদন্ত ও অভিযুক্তদের শাস্তি দাবি করছি।”
ঘটনাটি নিয়ে ইতোমধ্যে স্থানীয় রাজনীতিতে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। সাধারণ মানুষ বলছে, এ ধরনের দমননীতি ও বখাটেপনার কারণে জনগণ প্রতিনিয়ত হয়রানির শিকার হচ্ছে।
এলাকাবাসী প্রতিদিন দু’হাত তুলে প্রার্থনা করছে,
“আল্লাহ তুমি এই জুলুমবাজদের হাত থেকে আমাদের রক্ষা কর।”
বর্তমানে ঘটনাটি তদন্তের দাবি জানিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।