
মুন্সিগঞ্জ প্রতিনিধি
মুন্সিগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার বালুয়াকান্দি ইউনিয়নের আড়ালিয়া গ্রামে বাল্কহেড থেকে পানিতে পড়ে আল-আমিন (৮) নামের এক শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার (২২ জুলাই) দুপুরে মেঘনা শাখা নদীতে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দুপুর দেড়টার দিকে আড়ালিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির ছাত্র আল-আমিন সহ কয়েকজন শিশু নদীতে গোসলে যায়। এসময় নদীতে নোঙর করা একটি বাল্কহেড থেকে বালু খালাস চলছিল। শিশুরা খেলতে খেলতে সেই বাল্কহেডে উঠে পড়ে। শ্রমিকরা তাদের সেখান থেকে নামিয়ে দিতে বললে, শিশুরা পানিতে লাফ দেয়। লাফ দেওয়ার সময় আল-আমিনের পা পিছলে যায় এবং সে মাথায় আঘাত পেয়ে পানিতে তলিয়ে যায়।
প্রায় ১৫ মিনিটের চেষ্টার পর স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে, তবে তখন সে নিথর দেহে পরিণত হয়েছিল।
নিহত আল-আমিন গজারিয়া উপজেলার আড়ালিয়া গ্রামের জিলানীর ছেলে। পরিবারের একমাত্র ছেলে সন্তান ছিল সে।
প্রত্যক্ষদর্শী স্থানীয় বাসিন্দা ইব্রাহিম জানান, “মাথায় প্রচণ্ড আঘাত পাওয়ার কারণেই সম্ভবত সে সঙ্গে সঙ্গেই জ্ঞান হারায় এবং পানিতে তলিয়ে যায়।”
এ বিষয়ে বালুয়াকান্দি ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মিসির আলী বলেন, “আমি এমন একটি দুঃখজনক খবর পেয়েছি। ঘটনাস্থলে যাচ্ছি। শুনেছি, বাল্কহেড থেকে পড়ে শিশুটি মারা গেছে।”
গজারিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আনোয়ার আলম আজাদ বলেন, “বিষয়টি এখনো আমার জানা নেই। খোঁজখবর নিচ্ছি, বিস্তারিত পরে জানাব।”
স্থানীয়দের অভিযোগ, নদীতে নিয়মিত বালু খনন ও পরিবহন কাজে নিয়োজিত বাল্কহেডগুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকায় এমন দুর্ঘটনা বারবার ঘটছে। শিশু-কিশোরদের চলাফেরার এলাকায় বাল্কহেড নোঙর করায় ঝুঁকির মাত্রাও বেড়ে যাচ্ছে।
শিশুটির মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।