
শাহাদাত হোসেন রুবেল
বরিশালের চরকাউয়া ২নং ওয়ার্ড—প্রাকৃতিক খাল, সবুজ মাঠ আর কৃষকের স্বপ্নে গড়া এক শান্তিপূর্ণ জনপদ। কিন্তু সেই সৌন্দর্য এখন হুমকির মুখে! সরকারি খালের বুক চিরে দাঁড়িয়ে গেছে এক বিশাল পাকা ভবন। অভিযোগ, স্থানীয় নান্নু কাজি—মুন্সি মৌলভীর ছেলে—এই অবৈধ স্থাপনাটি গড়ে তুলেছেন খালের মাঝখানে।
চরকাউয়া খেয়াঘাট থেকে ময়দান পর্যন্ত বিস্তৃত খালটি একসময় ছিল এলাকার প্রাণ। কৃষকদের ভরসা, পরিবেশের নিঃশ্বাস। অথচ এখন সেই খালটি যেন ধীরে ধীরে নিঃশেষ হয়ে যাচ্ছে দখলদারদের লোভে! পানিপ্রবাহ বন্ধ হয়ে জমছে পানি, শুরু হয়েছে জলাবদ্ধতা। অদূর ভবিষ্যতে এই খাল হারিয়ে গেলে কৃষককে দিতে হবে দ্বিগুণ খরচ, আর পরিবেশের ওপর পড়বে ভয়ানক প্রভাব।
স্থানীয় এক কৃষক আফসোস করে বলেন,
“এই খাল ছাড়া চাষাবাদ কল্পনাই করা যায় না। এখন সেচ দিতে গিয়ে হিমশিম খেতে হয়। যদি পুরো খালটাই বন্ধ হয়ে যায়, তাহলে আমাদের জমি শুকিয়ে যাবে।”
জানা গেছে, অভিযুক্ত নান্নু কাজির চরকাউয়া খেয়াঘাটে একটি ফার্মেসি রয়েছে। পাশাপাশি তিনি ঝাড়ফুঁকের কাজও করেন, আর সেখানেই গড়ে তুলেছেন তার অবৈধ ‘দুর্গ’। অনেকে বলেন, এসব কারণে এলাকার মানুষ মুখ খুলতেও ভয় পান।
সবচেয়ে ভয়ংকর বিষয়—এত কিছু ঘটলেও প্রশাসন এখনো নিশ্চুপ! যেন এই দখল দৃষ্টি এড়িয়ে যাচ্ছে সকলের। এলাকাবাসী বলছেন,
“সরকারি খালের বুকেই যদি ভবন হয়, তাহলে সাধারণ মানুষ কোথায় যাবে?”
এখন সময় এসেছে প্রতিবাদ করার, প্রকৃতিকে রক্ষা করার।
চরকাউয়ার খাল শুধু একখণ্ড পানি নয়—এটি হাজারো কৃষকের জীবিকা, একটি জনপদের প্রাণ।