
বরিশালের বানারীপাড়ায় দীর্ঘ আট বছর পর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বহুল প্রতীক্ষিত উপজেলা ও পৌর বিএনপির ত্রি-বার্ষিক কাউন্সিল। আগামী ২০ জুলাই আয়োজিত এই কাউন্সিলকে কেন্দ্র করে তৃণমূল থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত নেতা-কর্মীদের মধ্যে বিরাজ করছে উৎসবমুখর পরিবেশ। দলীয় কার্যালয় থেকে চায়ের দোকান—সর্বত্র এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু বিএনপির নতুন নেতৃত্ব নির্বাচন।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলা ও পৌর বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য একাধিক নেতা সিভি জমা দিয়েছেন। চলছে মাঠপর্যায়ে প্রচারণা ও ভোটারদের সঙ্গে মতবিনিময়।
উপজেলা বিএনপির সভাপতি পদপ্রার্থী মো. শাহ আলম মিঞা বলেন,
“উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে আমি দুইবার প্রার্থী ছিলাম। দুঃসময়ে দলের পরিচয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছি, বিজয় ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে। মামলা-হামলার শিকার হয়েছি। আশা করি, কাউন্সিলে এসব ত্যাগ বিবেচনায় আসবে।”
উপজেলা বিএনপির সভাপতি পদে আরেক প্রার্থী মো. মঞ্জুর খান বলেন,
“আমি সবসময় সংগঠনের সঙ্গে ছিলাম। নেতা-কর্মীদের পাশে থেকেছি। কাউন্সিলে সকলে যোগ্যতা, ত্যাগ ও সততার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেবেন বলে আমার বিশ্বাস।”
উপজেলা সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী রিয়াজ উদ্দিন আহমেদ মৃধা বলেন,
“আমি গত ১৭ বছর ধরে আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ছিলাম। বহুবার কারাবরণ করেছি, মামলা-হামলার শিকার হয়েছি। দুঃসময়ে দলের হাল ধরে রেখেছি। এই কাউন্সিলে সেই ত্যাগের মূল্যায়ন প্রত্যাশা করি।”
অপর সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী গোলাম মাহমুদ মাহাবুব মাষ্টার বলেন,
“আন্দোলন-সংগ্রামে মাঠে সক্রিয় থেকেছি, মামলা-হামলার মুখে পড়েছি। এর আগেও আমি সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছি। এবারও দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী ভোটে নেতৃত্ব নির্বাচিত হবে বলে আশা রাখি।”
পৌর বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুস সালাম বলেন,
“দলের দুঃসময়ে রাজপথে ছিলাম, মামলা-হামলার শিকার হয়েছি, কারাবরণ করেছি। সাধারণ কর্মীদের পাশে থেকে দায়িত্ব পালন করেছি। এবারও দলীয় নেতাকর্মীরা ত্যাগের মূল্যায়ন করবেন বলে আশাবাদী।”
তিনি এর আগে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং বর্তমানে সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে কাজ করছেন।
পৌর বিএনপির সভাপতি পদে সিভি জমা দিয়েছেন বর্তমান আহ্বায়ক আহসান কবির নান্না হাওলাদার ও যুগ্ম আহ্বায়ক আলমগীর হোসেন মাঝি।
পৌর সাধারণ সম্পাদক পদে সিভি জমা দিয়েছেন বর্তমান সদস্য সচিব মো. হাবিবুর রহমান জুয়েল। বানারীপাড়ার রাজনীতির ময়দানে বিএনপির এক নিবেদিতপ্রাণ, সাহসী ও পরীক্ষিত নেতার নাম তিনি। দুঃসময় হোক কিংবা আন্দোলনের উত্তাল দিন, সব সময় সম্মুখভাগে ছিলেন এই রাজনৈতিক যোদ্ধা।
দলীয় গঠনতন্ত্র অনুসারে, উপজেলার ৮টি ইউনিয়ন ও পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ড বিএনপির পূর্ণাঙ্গ কমিটির ভোটে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হবেন।
নেতাকর্মীদের প্রত্যাশা—এই কাউন্সিলের মাধ্যমে উঠে আসবে ত্যাগী, সাহসী, পরীক্ষিত ও সংগঠনবান্ধব নেতৃত্ব, যারা আগামী দিনে দলের রাজনীতিকে আরও সুসংগঠিত ও কার্যকরভাবে এগিয়ে নিতে পারবেন।