
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরিশাল জেলার ছয়টি সংসদীয় আসনে দাখিল করা ৪৮টি মনোনয়নপত্রের বাছাই কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে। এতে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় অংশ নেওয়া বিএনপি মনোনীত একাধিক প্রার্থীর বিরুদ্ধে অতীত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলের দায়ের করা একাধিক মামলার তথ্য উঠে এসেছে।
এই তালিকায় বরিশাল-২ (উজিরপুর-বানারীপাড়া) আসনে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী সরদার সরফুদ্দিন আহমেদ সান্টুও রয়েছেন। বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য সান্টুর বিরুদ্ধে বর্তমানে ছয়টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে, যার মধ্যে পাঁচটিই দুর্নীতি দমন আইনে দায়ের করা।
রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, আয়কর বিভাগের আপত্তির মুখে বরিশাল-২ আসনে বিএনপি মনোনীত এই প্রার্থীর মনোনয়ন স্থগিত করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, তিনি ২০৭ কোটি ২৯ লাখ ৭৪ হাজার ৫৮৭ টাকা আয়কর ফাঁকি দিয়েছেন। এই তথ্য সামনে আসার পর উজিরপুর-বানারীপাড়া জুড়ে তাকে নিয়ে ব্যাপক সমালোচনার ঝড় বইছে।
জানা গেছে, বরিশাল জেলার ছয়টি সংসদীয় আসনে মোট ৬২ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করলেও দাখিল করেন ৪৮ জন। শনিবার (৩ জানুয়ারি) বাছাইয়ের শেষ দিনে ৩২টি মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেন রিটার্নিং কর্মকর্তা। এ সময় বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীসহ মোট ১০ জনের মনোনয়ন স্থগিত এবং ৬ জনের মনোনয়ন বাতিল করা হয়।
রিটার্নিং কর্মকর্তার দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ৪৮ জন প্রার্থীর মধ্যে আয়কর খেলাপি হিসেবে দুইজনের নাম উঠে আসে। তারা হলেন— বরিশাল-৫ (সদর) আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মজিবর রহমান সরোয়ার এবং বরিশাল-২ (উজিরপুর-বানারীপাড়া) আসনের প্রার্থী সরদার সরফুদ্দিন আহমেদ সান্টু।
সূত্র জানায়, ২০০৮ সালে এক কোটি ৩১ লাখ টাকার বেশি আয়কর ফাঁকির অভিযোগে আয়কর বিভাগ একটি মামলা দায়ের করলেও পরবর্তীতে উচ্চ আদালতের আদেশে সেটি স্থগিত হয়। মামলাটি বিচারাধীন থাকলেও নির্বাচনে অংশগ্রহণে আইনি বাধা নেই।
তবে বরিশাল-২ আসনে সান্টুর বিরুদ্ধে ২০৭ কোটি টাকার বেশি আয়কর ফাঁকির অভিযোগটি গুরুতর হওয়ায় তার মনোনয়ন আটকে গেছে। উল্লেখ্য, সরদার সরফুদ্দিন আহমেদ সান্টু বরিশালের উজিরপুরে অবস্থিত দেশব্যাপী আলোচিত বায়তুল আমান (গুঠিয়া মসজিদ) কমপ্লেক্সের প্রতিষ্ঠাতা।
ঢাকা কর অঞ্চল-৭ এর সার্কেল-১৩৩ কার্যালয়ের ২০১৪ সালের এক নথি অনুযায়ী, করবর্ষ ১৯৯৯-২০০০ থেকে ২০০৭-২০০৮ পর্যন্ত সময়ে সান্টুর করদাবি ছিল ৩৮ কোটি ৯১ লাখ ৬১ হাজার ৩৫২ টাকা। এর বিপরীতে জরিমানা ধার্য করা হয় ১৬৮ কোটি ৩৮ লাখ ১৩ হাজার ২৩৫ টাকা। সব মিলিয়ে তার বিরুদ্ধে মোট করদাবির পরিমাণ দাঁড়ায় ২০৭ কোটি ২৯ লাখ ৭৪ হাজার ৫৮৭ টাকা।
সান্টুর দাখিল করা হলফনামা অনুযায়ী, বর্তমানে তার বিরুদ্ধে ছয়টি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে পাঁচটি দুর্নীতি সংক্রান্ত এবং একটি আয়কর ফাঁকির মামলা, যা উচ্চ আদালতের আদেশে স্থগিত রয়েছে। বর্তমানে তার বিরুদ্ধে কোনো রাজনৈতিক মামলা নেই। তবে অতীতে তার বিরুদ্ধে মোট আটটি মামলা ছিল, যার মধ্যে তিনটি ছিল আয়কর সংক্রান্ত— সেগুলো নিষ্পত্তি হয়েছে। বাকি মামলাগুলো ছিল রাজনৈতিক।
এ বিষয়ে সরদার সরফুদ্দিন আহমেদ সান্টুর কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এদিকে রিটার্নিং কর্মকর্তা জানিয়েছেন, যেসব প্রার্থীর মনোনয়ন স্থগিত করা হয়েছে, তাদের কাগজপত্র অধিকতর যাচাই-বাছাই চলছে। আর যাদের মনোনয়ন বাতিল হয়েছে, তারা চাইলে আপিল করতে পারবেন