
কাজী সায়েমঃ বরিশালের উজিরপুরে সাইপ্রাস প্রবাসীর স্ত্রী মিম (২২)–এর রহস্যজনক মৃত্যু নিয়ে এলাকাজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। নিহত মিমের মরদেহ সোমবার সকালে উপজেলার পূর্ব নারায়নপুরের আক্কাস আলী সড়কের একটি ভাড়া বাসা থেকে গলায় উড়না পেঁচানো অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।
নিহত মিম ছিলেন স্থানীয় বাসিন্দা বাবুল হাওলাদারের কন্যা। তার স্বামী আবুল কাসেম সাইপ্রাস প্রবাসী। স্বামীর অনুপস্থিতিতে তিনি বাবার বাড়ির পাশেই এক ভাড়া বাসায় থাকতেন।
নিহতের বাবা বাবুল হাওলাদার অভিযোগ করে বলেন, “আমার মেয়েকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। ওর শাশুড়ি হাফিজা ও ননদ মরজিনা দীর্ঘদিন ধরে মানসিক নির্যাতন করতো। ঘটনার আগের রাতেও মরজিনা পাওনা টাকা নিয়ে ফোনে ঝগড়া করেছিল।”
মিমের চাচা আবুল হাওলাদার জানান, “দুদিন আগে মিম আমার কাছে এক লাখ টাকা চেয়েছিল। বলেছিল, ননদ টাকা না দিলে আমাকে শান্তিতে থাকতে দিবে না।’ আমি বলেছিলাম, বাসায় টাকা আছে, তুই এসে নিয়ে যাস। পরদিনই শুনি, মিম আর নেই।”
মায়ের চোখে জল নিয়ে রাশিদা বেগম বলেন, “রাতে মিম আমার সাথে শাশুড়ি আর ননদকে আপ্যায়নের জন্য কিছু বাজার করে। তারপর এক লাখ ৭০ হাজার টাকা ওর চাচার বাড়ি থেকে এনে দেয়। রাত ১০টার দিকে দেখেছি ও ভালোই আছে। সকালে হঠাৎ শুনি, আমার মেয়ে আর নেই। আমি এর বিচার চাই।”
প্রতিবেশীদের মতে, এটি কোনো আত্মহত্যা নয়। অনেকেই জানিয়েছেন, ঘটনার সময় মরজিনা ও তার মা হাফিজাকে বোরকা পরা অবস্থায় বাসা থেকে বের হতে দেখা গেছে। গতকাল দুপুর পর্যন্ত বাড়িতে দেখেছি এর পরে এরা কোথয় গেছে আমরা জানিনা। মিমের মৃত্যুর পর তার মোবাইল থেকে মরজিনার গালিগালাজের রেকর্ড মুছে ফেলার অভিযোগও উঠেছে।
প্রায় সাড়ে তিন বছর আগে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে মিম ও কাসেমের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরে পারিবারিক সম্মতিতে তাদের বিয়ে হয়। তবে বিয়ের পর থেকেই শাশুড়ি ও ননদের সঙ্গে মিমের সম্পর্ক খারাপ ছিল। স্বামীর প্রবাসে থাকা অবস্থায় এসব চাপ সহ্য করতে না পেরে তিনি আলাদা ভাড়া বাসায় বসবাস শুরু করেন।
এলাকাবাসী আরও জানান, ননদ মরজিনা একাধিকবার বিয়ে করেছেন, ১৭ বছর ছিলেন ভারতে। দেশে ফিরে কারও সাথেই ভালো ব্যবহার করতেন না, এমনকি নিজের মাকেও মারধর করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ ঘটনায় উজিরপুর থানায় নিহতের বাবা বাবুল হাওলাদার বাদী হয়ে একটি অজ্ঞাত মামলা দায়ের করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, মৃত্যুর কারণ জানতে তদন্ত চলছে এবং ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এলাকাবাসীর দাবি, এ ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে কঠোর শাস্তি দিতে হবে। তারা বলেন, “এটি আত্মহত্যা নয়, ঠাণ্ডা মাথার একটি পরিকল্পিত হত্যা।”
এ ঘটনায় এলাকাজুড়ে শোক ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। মিমের জন্য ন্যায়বিচার চায় তার পরিবার ও স্থানীয় জনগণ।