
নিজস্ব প্রতিবেদকঃ বরিশাল অগ্রণী হাউজিং লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আব্দুল আজিজ হাওলাদারের অণ্ডকোষ চেপে ধরে চেক ও স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়ার অভিযোগ ইতিমধ্যেই সারাদেশে ভাইরাল হয়েছে। কিছুদিন পূর্বে নগরীর সদর রোডে অগ্রণী হাউজিং প্রকল্প কার্যালয়ে এই ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী আব্দুল আজিজ ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করলে তা মূহুর্তেই ভাইরাল হয় এবং বরিশালের সুধীজন এর বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে প্রতিকার চেয়েছেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও ব্যক্তিগত সাক্ষাৎকারে।
এই ন্যক্কারজনক ঘটনায় একটা নালিশি মামলা দায়ের করেন ভুক্তভোগী আঃ আজিজ হাওলাদার।
মামলায় তিনজন আসামীর নাম উল্লেখপূর্বক অজ্ঞাত ১০/১৫ জনের নাম উল্লেখ থাকলেও কোতয়ালী মডেল থানা পুলিশ দুইজন কে গ্রেফতার করে আদালতে সোপর্দ করেন।
সেই মামলা দ্রুত ট্রাইব্যুনালে গত ০৭ জুলাই’২৬ তারিখে মামলার বিচারের তারিখ নির্ধারিত ছিল।
ওই তারিখে উভয় পক্ষ উপস্থিত হলে এজলাসের সামনে মামলার ১ নং বিবাদী মোস্তাফিজুর রহমান লিটু সামনে থাকা ২/৩ জন লোকের সামনেই বাদী আঃ আজিজ হাওলাদার কে ওপেন চ্যালেঞ্জ দিয়ে বলে “একবার জামিন নিয়া বের হই, এরপর কিন্তু তোর খবর আছে”।
বর্তমানে আঃ আজিজ হাওলাদার শারীরিকভাবে অসুস্থ আছেন এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী সম্পূর্ণ বিশ্রামে নিজ বাসায় অবস্থান করছেন।
বর্তমান অবস্থা ও আইনগত সহযোগিতা পাওয়া নিয়ে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলার এক পর্যায়ে ভুক্তভোগী আব্দুল আজিজ অভিযোগ করে বলেন, লিটু একসময় তাদের আবাসন ব্যবসার অংশীদার ছিলেন।
পরবর্তী সময়ে বিনিয়োগের বিপরীতে জমি হস্তান্তরের মাধ্যমে হিসাব নিষ্পত্তি করা হয় এবং ওই জমি মোঃ দুলাল হাওলাদার নামে একজন ব্যক্তির নিকট বিক্রয়োত্তর বায়না করা হয় এবং কোনো পাওনা নেই—এমন অঙ্গীকারনামাও দেওয়া হয়।
এখন জোরপূর্বক ঘটনায় নালিশি মামলায় তিনি কারাগারে আছেন কিন্তু তার আত্মীয়-স্বজন থেকে মোবাইলে অনবরত হুমকি দেওয়া হচ্ছে এবং গ্রেফতারকৃত মোস্তাফিজুর রহমান লিটু ও আবুল কালাম আজাদ জামীনে বের হলে আমি আমার জীবন নিয়ে শঙ্কিত থাকবো কারণ তারা আমাকে বাচতে দিবেনা, এই কথা সেদিন আদালত প্রাঙ্গনে উচু গলায় বলছিল।
উল্লেখ্য, আজিজ হাওলাদার সাংবাদিকদের দেওয়া যাবতীয় দলীল দস্তাবেজ পর্যালোচনা করে দেখা যায়, মোঃ আবুল কালাম আজাদের সাথে গত ২৩/০৪/২০২৪ তারিখের চুক্তির ভিত্তিতে সকল দেনা পাওনা পরিশোধ করা হয় এবং
মোস্তাফিজুর রহমান লিটু গত ১২/১১/২০২৪ তারিখে তিনশত টাকার স্টাম্পে অঙ্গীকারনামার ভিত্তিতে সকল লেনদেন সম্পন্ন করা হয়।
কিন্তু তারা আদালত কে ভুল বুঝিয়ে প্রভাব খাটিয়ে এই ঘটনা কে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার পাঁয়তারা করতেছে।
কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বলেন, মামলাটি আদালতে বিচারিক কার্যক্রম চলমান আছে এবং আমরা প্রাথমিকভাবে অভিযুক্ত দুইজন আসামী কে আদালতে হস্তান্তর করেছি বাকীদের গ্রেফতার করতে আমরা নিরলস কাজ করছি।