
রিপোর্ট:
২০২৪ সালের জুলাই মাসে দেশের বিভিন্ন স্থানে সংঘটিত গণঅভ্যুত্থানের সময় পুলিশের গুলিতে এবং আওয়ামী লীগ সমর্থকদের হামলায় নিহত হন ছয়জন সাংবাদিক। আহত হয়েছেন দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে প্রায় দেড় শতাধিক সাংবাদিক। এই বর্বর ঘটনার বিচার, আহতদের চিকিৎসা ও নিহতদের পরিবারকে যথাযথ ক্ষতিপূরণের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ অনলাইন সংবাদপত্র ও সাংবাদিক ইউনিয়ন।
সংগঠনের সভাপতি মোহাম্মদ আবুবকর সিদ্দিক ভূঁইয়া ও সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম বলেন, নিহত সাংবাদিকদের পরিবার এবং সহকর্মীরা দীর্ঘদিন ধরে বিচারপ্রক্রিয়ার ধীরগতির কারণে হতাশ ও ক্ষুব্ধ। তাঁরা অভিযোগ করেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের অধীনে থাকা তদন্তের গতি খুবই শ্লথ এবং এখনো কোনো কার্যকর বিচার সম্পন্ন হয়নি।
উল্লেখ্য, ৪ আগস্ট এক বিবৃতিতে সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি জানান, প্রায় এক বছর পার হলেও ১৯ জুলাই ২০২৪ সালে নিহত আলোকচিত্রী আবু তাহের মো. তুরাব হত্যা মামলায় মাত্র দুজন সন্দেহভাজনকে অস্থায়ীভাবে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে। একইভাবে, ১৮ জুলাই নিহত ঢাকা টাইমসের প্রতিবেদক মেহেদী হাসানের ঘটনায় মাত্র দুজনকে চিহ্নিত করা গেছে, যার মধ্যে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। নিহত মেহেদীর বাবা এবং ভিডিও সাংবাদিক তাহির জামান প্রিয়ের মা অভিযোগ করেছেন, মামলার আসামিরা তাদের প্রকাশ্যে হুমকি দিচ্ছে।
নিহত সাংবাদিকরা হলেন:
শাকিল হোসেন – দৈনিক ভোরের আওয়াজের সংবাদদাতা
মেহেদী হাসান – ঢাকা টাইমসের প্রতিবেদক
আবু তাহের মো. তুরাব – দৈনিক নয়া দিগন্ত ও জালালাবাদ পত্রিকার আলোকচিত্রী
তাহির জামান প্রিয় – TheReport.live-এর ভিডিও সাংবাদিক
প্রদীপ কুমার ভৌমিক – দৈনিক খবরপত্রের সংবাদদাতা
সোহেল আখঞ্জি – দৈনিক লোকালয় বার্তার প্রতিবেদক
বাংলাদেশ অনলাইন সংবাদপত্র ও সাংবাদিক ইউনিয়ন এক বিবৃতিতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রতি ন্যায়বিচারের প্রতিশ্রুতি পূরণের আহ্বান জানিয়ে বলেন, এ হত্যাকাণ্ডের দ্রুত তদন্ত ও বিচার না হলে সাংবাদিক সমাজের নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়বে।