
নিজস্ব প্রতিবেদক
বরিশালের বানারীপাড়ায় খেয়া পারাপারের সময় দুই ট্রলারের মুখোমুখি সংঘর্ষে ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে। এতে বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মান্নান বেপারী ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান এবং আরও কয়েকজন যাত্রী আহত হন। স্থানীয় প্রশাসন ও কর্তৃপক্ষ এ ঘটনায় মুখ না খুলে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
ট্রলার চালকের দায়িত্বহীনতায় প্রাণহানি
প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা গেছে, ঘটনার সময় ট্রলারচালক নিজেই যাত্রীদের কাছ থেকে ভাড়া তুলছিলেন। এ সময় স্টিয়ারিং (সুকান) তিনি এক যাত্রীর হাতে দিয়ে দেন। এর ফলে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ট্রলারটি অপর আরেকটি ট্রলারের সঙ্গে সংঘর্ষে লিপ্ত হয় এবং ঘটে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা।
সাংবাদিকদের হেনস্তা, হুমকি ও তথ্য গোপনের অভিযোগ
দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে স্থানীয় খেয়া ঘাটের ইজারাদার ছবুর হোসেন খান–এর কাছে গেলে তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে অশোভন ও হুমকিস্বরূপ আচরণ করেন। অভিযোগ রয়েছে, সাংবাদিকদের প্রশ্ন শুনেই তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন এবং বলেন—
“তোমরা কেন এসেছো? তোমাদের কাজ কী? আমার কাছে কেউ এলে আমি কুকুর লেলিয়ে দেই, কামড়ায়। তাই কেউ আসে না। আমি বানারীপাড়া বিএনপির ১ নম্বর সহ-সভাপতি।”
এখানেই থেমে থাকেননি তিনি। একজন সাংবাদিক মোবাইলে তার বক্তব্য রেকর্ড করতে চাইলে তিনি ফোনটি ছিনিয়ে নেন এবং বলেন—
“তুই আমার কথা ভিডিও করিস? আমাকে চিনস? আমি আওয়ামী লীগ আমলে দুইবার মেম্বার ছিলাম। তোর টুনটুনি টাইন্না ছিঁড়া ফালামু শালা!”
এই ঘটনায় সাংবাদিকদের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় সংবাদকর্মীরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন এবং বিভিন্ন মহল থেকে এর নিন্দা জানানো হচ্ছে।
যাত্রী ভাড়ায় চলছে চরম অনিয়ম
এছাড়া খেয়া ঘাটে যাত্রীদের কাছ থেকে নিয়মিত অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। যাত্রী ভাড়া ৬ টাকার জায়গায় ৭ টাকা, মোটরসাইকেল ২০ টাকার জায়গায় ৪০ টাকা, রিকশা–ভ্যান ১৫০ থেকে ২০০ টাকা, এমনকি ফেরিওয়ালাদের কাছ থেকেও ৩০-৪০ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয়। দীর্ঘদিন ধরে এই অনিয়ম চললেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
সাংবাদিক সমাজের প্রতিবাদ ও প্রশাসনের নীরবতা
দুর্ঘটনা ও সাংবাদিক হেনস্তার ঘটনায় স্থানীয় সাংবাদিক সংগঠন ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে। তারা বলছে
“এভাবে সাংবাদিকদের হেনস্তা করে ঘটনা গোপনের চেষ্টা প্রমাণ করে ঘাটে দীর্ঘদিন ধরে অনিয়ম চলছে। আমরা দ্রুত তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা চাই।”
কিন্তু ঘটনার পরও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো বিবৃতি বা কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। স্থানীয়দের আশঙ্কা, রাজনৈতিক প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় এই অনিয়ম চলতে থাকবে যদি প্রশাসন কঠোর পদক্ষেপ না নেয়।
জাতীয় উদ্বেগে বানারীপাড়া দুর্ঘটনা
একজন মুক্তিযোদ্ধার মৃত্যু, খেয়া ঘাটের অব্যবস্থাপনা ও সাংবাদিক হেনস্তা—এই তিনটি বিষয় মিলিয়ে ঘটনাটি এখন জাতীয় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, অবিলম্বে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ ও নিরপেক্ষ তদন্ত ছাড়া ভবিষ্যতে আরও বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।