
মাইদুল ইসলাম রনিঃ বরিশাল জেলা প্রতিনিধি।
সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও ঐতিহ্যের প্রতীক ঐতিহাসিক তেতলা কেন্দ্রীয় সার্বজনীন শ্রী শ্রী কালী মন্দিরে উদযাপিত হচ্ছে প্রায় আড়াইশ বছরের পুরনো কালী পূজা ও কবি গানের আসর। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মন্দির প্রাঙ্গণ পরিদর্শন করেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী।
প্রতি বছরের ন্যায় এবারও বানারীপাড়া উপজেলার তেতলা কেন্দ্রীয় সার্বজনীন কালী মন্দিরে উৎসবমুখর পরিবেশে কালী পূজা ও কবি গানের আয়োজন করা হয়েছে। ১৭৫৮ খ্রিস্টাব্দে প্রতিষ্ঠিত এই মন্দিরে দীর্ঘ প্রায় ২৫০ বছর ধরে ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক এই আয়োজন চলে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় ২১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, বুধবার (০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) মন্দির প্রাঙ্গণে সাড়ম্বরে কালী পূজা অনুষ্ঠিত হয়।
নির্বাচনকালীন সময়ে দেশের সকল নাগরিকের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী দেশজুড়ে পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছে। এর অংশ হিসেবে ৭ পদাতিক ডিভিশনের ৬ পদাতিক ব্রিগেডের অধীন ৬২ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের দায়িত্বপূর্ণ এলাকা বানারীপাড়া আর্মি ক্যাম্পের আওতাধীন লেফটেন্যান্ট মাহফুজুর রহমান এবং সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার করিমুল হাসানের নেতৃত্বে সেনাবাহিনীর একটি টীম চলমান পূজা অনুষ্ঠান পরিদর্শনে অংশ নেয়।
পরিদর্শনকালে সেনাসদস্যরা দায়িত্বরত স্বেচ্ছাসেবক, ভক্ত ও সাধারণ দর্শনার্থীদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন। পাশাপাশি মেলার বিভিন্ন স্টল ঘুরে দেখেন এবং সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার খোঁজখবর নেন।
এ সময় মন্দির পরিচালনা পর্ষদের পক্ষ থেকে বক্তব্য রাখেন—
বিমলেন্দু হালদার, সভাপতি;
অমৃতলাল রায়, সাধারণ সম্পাদক;
তপন রায়, কোষাধ্যক্ষ।
বক্তারা পূজা ও মেলা শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে প্রশাসনের সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতিতে প্রশাসনকে অবহিত করার অঙ্গীকার করেন।
উপস্থিত ভক্ত ও দর্শনার্থীরা সেনাবাহিনীর এই সক্রিয় ভূমিকার প্রশংসা করেন। তারা জানান, উৎসব চলাকালে সেনাবাহিনীর নিয়মিত টহল ও তদারকি তাদের মধ্যে নিরাপত্তা ও আস্থার অনুভূতি তৈরি করেছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, সেনাবাহিনীর এ ধরনের পরিদর্শন ও সমন্বয় কার্যক্রম নির্বাচনী পরিবেশকে আরও শান্তিপূর্ণ, ইতিবাচক ও আস্থাশীল রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।