
বাংলাদেশ ওয়েল্ডিং ইলেকট্রোডস লিমিটেডের উৎপাদন কার্যক্রম ২০১৬ সাল থেকে বন্ধ রয়েছে।
বাংলাদেশ ওয়েল্ডিং ইলেকট্রোডস লিমিটেড ২০১৬ সাল থেকে প্রায় ৯ বছর তাদের উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। এর পরও কোম্পানটি ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সাপ্তাহিক দর বৃদ্ধির তালিকার শীর্ষে উঠে এসেছে। ডিএসইর সাপ্তাহিক হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে।
তথ্যানুসারে, বাংলাদেশ ওয়েল্ডিং ইলেকট্রোডসের শেয়ারদর গত সপ্তাহে ২৮ দশমিক ৩৮ শতাংশ বেড়েছে। সপ্তাহ শেষে কোম্পানিটির দর দাঁড়িয়েছে ১৯ টাকায়, আগের সপ্তাহে যা ছিল ১৪ টাকা ৮০ পয়সা। গত এক বছরে কোম্পানিটির শেয়ারদর ৬ টাকা ৮০ পয়সা থেকে ১৯ টাকা ৪০ পয়সার মধ্যে ওঠানামা করেছে।
অস্বাভাবিক দর বৃদ্ধির কারণ জানতে চেয়ে গত ২২ ডিসেম্বর কোম্পানিটিকে চিঠি দেয় ডিএসই। জবাবে কোম্পানিটি জানিয়েছে, অপ্রকাশিত কোনো মূল্যসংবেদনশীল তথ্য ছাড়াই শেয়ারদর বাড়ছে।
কারসাজির পুরনো কৌশল কি ফিরছে?
পুঁজিবাজার বিশ্লেষকদের মতে, উৎপাদন বন্ধ থাকা কোম্পানির শেয়ার ব্যবহার করে দর বাড়ানোর ঘটনা নতুন নয়। সীমিত লেনদেন, কম ফ্রি-ফ্লোট, নির্দিষ্ট কয়েকটি বিও হিসাবের মাধ্যমে ধাপে ধাপে দর বাড়িয়ে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করা হয়—এমন অভিযোগ বহুবার উঠেছে।
বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, বিডি ওয়েল্ডিংয়ের ক্ষেত্রেও একই চিত্রের পুনরাবৃত্তি হচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখা জরুরি।
প্রসঙ্গত, বিডি ওয়েল্ডিং লিমিটেড দীর্ঘদিন ধরে লোকসানি অবস্থায় রয়েছে এবং উৎপাদন বন্ধ থাকায় কোম্পানিটির আয় কার্যত শূন্যের কোঠায়। এর আগে বিভিন্ন সময় নিয়ন্ত্রক সংস্থার পক্ষ থেকে কোম্পানিটির ব্যবসা কার্যক্রম ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি দেখা যায়নি।
এ বিষয়ে বাজার সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)-এর উচিত শেয়ারটির সাম্প্রতিক দরবৃদ্ধির কারণ খতিয়ে দেখা এবং বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া।
সিটি ব্রোকার হাউজে ট্রেড করেন এমন একজন বিনিয়োগকারী ফয়েজ আহমেদ। তিনি বলেন, ‘মন্দা বাজারে যখন উৎপাদন নেই, এমন কোম্পানির দর বাড়ে তখন সহজেই বোঝা যায় যে, এর সঙ্গে কোনো অসৎ চক্র জড়িত। কারণ, অতীতে না বুঝে এমন শেয়ারে বিনিয়োগ করে লোকসান দিয়েছি। এমন কোম্পানির দর বিভিন্ন গুজব ছড়িয়ে বাড়ানো হয় বলে জানান তিনি। এমন কোম্পানিতে বিনিয়োগ করে ক্ষতিগ্রস্ত হন বিনিয়োগকারীরা।’
অতীতে না বুঝে এমন শেয়ারে বিনিয়োগ করে লোকসান দিয়েছি। এমন কোম্পানির দর বিভিন্ন গুজব ছড়িয়ে বাড়ানো হয় বলে জানান তিনি। এমন কোম্পানিতে বিনিয়োগ করে ক্ষতিগ্রস্ত হন বিনিয়োগকারীরা।
আর্থিক প্রতিবেদন অনুসারে, বাংলাদেশ ওয়েল্ডিং সমাপ্ত ২০১৮-১৯ হিসাব বছরে বিনিয়োগকারীদের ১ শতাংশ স্টক লভ্যাংশ দিয়েছে। সমাপ্ত ২০১৭-১৮ হিসাব বছরে বিনিয়োগকারীদের কোনো লভ্যাংশ দেয়নি কোম্পানিটি। ২০১৬-১৭ হিসাব বছরেও কোনো লভ্যাংশ পায়নি কোম্পানিটির শেয়ারহোল্ডাররা।
১৯৯৯ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত বাংলাদেশ ওয়েল্ডিংয়ের অনুমোদিত মূলধন ৫০ কোটি ও পরিশোধিত মূলধন ৪৩ কোটি ৩৪ লাখ ৯০ হাজার টাকা।
রিজার্ভে রয়েছে ৬ কোটি ৪৯ লাখ টাকা। মোট শেয়ার সংখ্যা ৪ কোটি ৩৩ লাখ ৪৯ হাজার ৩০৫। এর ৩১ দশমিক শূন্য ১ শতাংশ রয়েছে উদ্যোক্তা পরিচালকদের কাছে। এছাড়া প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে ২ দশমিক ৮৮, বিদেশী বিনিয়োগকারীদের কাছে দশমিক ৭২ ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে বাকি ৬৫ দশমিক ৩৯ শতাংশ শেয়ার রয়েছে।